প্রতিদিন সকালবেলা সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই জেগে ওঠে পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়ি। সবুজ পাহাড়, স্বচ্ছ ঝিরি আর কুয়াশায় ঢাকা আলুটিলা পর্যটন এলাকা যেন প্রকৃতির আঁচল থেকে পড়ে থাকা স্বর্গখণ্ড। কিন্তু এই সৌন্দর্যের ঠিক পাশেই জমে উঠছে এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন, খাগড়াছড়ি পৌরসভার ময়লার স্তুপ।
খাগড়াছড়ি-ঢাকা ও চট্টগ্রাম প্রধান সড়কের ধারে আলুটিলার একেবারে কাছেই পৌরসভার ট্রাক এসে থামে নিয়ম করে ফেলে যায় বর্জ্যের বিশাল স্তূপ। খাবারের উচ্ছিষ্ট, পচা পলিথিন, ব্যবহৃত মাস্ক, বোতল, এমনকি হাসপাতালের বর্জ্যও মাঝে মাঝে এসে পড়ে এখানে। গরমে গন্ধ আরও তীব্র হয়, বর্ষায় তা গড়িয়ে পড়ে ঝিরিতে। সেখান থেকে চেঙ্গী নদীতে গিয়ে পানির সাথে মিলে এই বর্জ্য।
“বৃষ্টি হলে ঝিরির পানি দিয়ে এই ময়লা গিয়ে সামিল হয় চেঙ্গি নদীর পানির সাথে। এতে যারা পাহাড়ে বসবাসরত মানুষ ঐ পানি ব্যবহার করে তাদের অসুস্থ হতে খুব বেশি সময় প্রয়োজন হয়না।
পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে আলুটিলার সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিন হাজারও পর্যটক আসেন এই জেলায়। শহরে ডুকতেই অনেকে গাড়িতে নাকে রুমাল চাপেন অথবা হাত দিয়ে নাক-মুখ চেপে ধরেন। তারপরও এই ময়লার দুর্গন্ধ থেকে রক্ষা পাওয়ার কোনো সুযোগ থাকেনা।
সকালে বাসা থেকে যেমনটা শরীরে সুগন্ধি জাতীয় জিনিস লাগিয়ে বের হয় মানুষ ঠিক তেমনি খাগড়াছড়ি শহরে ডুকতে এমনি একটি দুর্গন্ধ নিয়ে আপনাকে গাড়ি থেকে নামতে হবে। যেটি সারা রাতের বা দিনের জার্নিকে দ্বিগুণ ক্লান্তির করে তুলবে।
এই আলুটিলার চারপাশে অনেক পরিবার বসবাস করে থাকেন এবং অনেক মানুষ আশে-পাশের পাহাড়গুলোতে ফলের বাগান ও জুম চাষ করে থাকেন। তারা এই দুর্গন্ধের কারণে ছোট-বড় অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। আর এই সড়কে যারা নিয়মিত চলাপেরা করেন তাদের দুর্ভোগ চলমান। এর মুক্তি পেতে চায় এই জেলার মানুষ ও পর্যটকরা।
স্থানীয় পাইলাপ্রু মারমা জানান, এই এলাকায় অনেক পরিবার বসবাস করে তারা এই দুর্গন্ধের কারনে অনেক সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে। এবং চেঙ্গী নদীর পানি ব্যবহার করে থাকেন এতে আসপাশের মানুষের অনেক ক্ষতি হয়। আমরা পৌর কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে তারা নির্দিষ্ট স্থানে এই ময়লা নিয়ে যায়।
সড়কের পাশ থেকে ময়লার স্তুপ সড়িয়ে নিতে খাগড়াছড়ি পৌরসভার কুমিল্লাটিলা এলাকায় ২০২০-২০২১ অর্থ বছরে তৈরি করা হয় স্যানিটারি ল্যান্ডফিল পরিশোধনাগার। কিন্তু কোটি টাকা ব্যায় করে এটি কোনো কাজেই আসেনি। ঐ ল্যান্ডফিল ঘাসের স্তূপে পরিনত হয়েছে। কারণ এটি ব্যবহার হয়না।
সড়কে নিয়মিত চলাচল করা আরফাত ইসলাম বলেন, আমরা যখন চট্টগ্রাম থেকে খাগড়াছড়ি আসি ঠিক আলুটিলা পার হয়ে শহরে ডুকতেই এই ময়লার দুর্গন্ধ নাকে লাগে। নাক চেপে ধরেও এর থেকে রক্ষা পাওয়া যায়না। তিন ঘন্টা জার্নি করে শহরে ডুকে মনেহয় সারাদিন গাড়িতে ছিলাম। খুব ক্লান্ত হয়ে যাই।
খাগড়াছড়ি পৌর প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ময়লা বা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাগড়াছড়ি পৌরসভার জন্য একটি চ্যালেঞ্জ এটা নিয়ে লড়াই করে যাচ্ছি। কুমিল্লা টিলায় যে ডাম্পিং স্টেশন আছে সেখানে ময়লা পেলা নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের আপত্তি থাকায় পেলা যাচ্ছেনা। এই ডাম্পিং থেকে স্থানীয় জনগন যেভাবে উপকৃত হয় সেই বিষয়ে আমরা কথা বলছি। আমরা ডাম্পিংয়ে কাজগুলো করে নিয়মিত ময়লা পেলার কাজ শুরু করবো। কিছুদিন সময় লাগবে।
আলুটিলা শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি খাগড়াছড়ির পরিচয়। কিন্তু আজ সেই পরিচয় মলিন হচ্ছে আমাদেরই অবহেলায়। প্রশাসন, নাগরিক এবং পর্যটকদের সম্মিলিত চেষ্টাতেই একে বাঁচানো সম্ভব।
এই ময়লার দুর্গন্ধ থেকে মুক্তি পেতে চায় খাগড়াছড়ি মানুষ ও দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পর্যটকরা। পৌর কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি পড়লেই বদলে যেতে পারে এই পাহাড়ে ময়লা পেলার চিত্র।
পড়ুন: রাঙামাটিতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশে এনসিপিকে হুঁশিয়ারি, পুলিশ মোতায়েন
দেখুন: নেত্রকোনা গরু চুরির ঘটনায় যুবদল সাধারন সম্পাদকসহ আটক ৩ |
ইম/


