জয়ের জন্য শেষ ওভারে পাকিস্তানের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। তাদের হাতে ছিল এক উইকেট। মুস্তাফিজের করা ওভারের প্রথম বলেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে সমীকরণ সহজ করেন আবরার আহমেদ। পরের বলেও উড়িয়ে মেরেছিলেন এই ব্যাটার, তবে এবার বল যায় সরাসরি মিডউইকেটে দাঁড়িয়ে থাকা শামীম হোসেনের হাতে। তাতে ৮ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মিরপুরে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১৩৩ রান করেছে বাংলাদেশ। জবাবে খেলতে নেমে ১৯ ওভার ২ বলে সবকটি উইকেট হারিয়ে ১২৫ রানের বেশি করতে পারেনি পাকিস্তান।
মিরপুর শের-ই বাংলা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। এ দিন টসে হেরে আগে ব্যাটিং করে ১৩৩ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই টপ-অর্ডারের ৪ ব্যাটারকে হারিয়ে চাপে পড়ে সফরকারীরা।
মঙ্গলবার (২২ জুলাই) শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানায় পাকিস্তান। টস হেরে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশ নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৩৩ রানে অলআউট হয়েছে। দলের পক্ষে জাকের আলী ৪৮ বলে সর্বোচ্চ ৫৫ রান করেন।
সিরিজে ফেরার লড়াইয়ে ১৩৪ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খায় সফরকারীরা। প্রথম ওভারেই রিশাদের দারুণ থ্রো-তে রানআউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন সাইম আইয়ুব। পরের ওভারেই মোহাম্মদ হারিসকে ফেরান শরিফুল ইসলাম। গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফিরে যান এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার।
চতুর্থ ওভারে বল করতে এসে এবার ফখর জামানকে ফেরান শরিফুল। আগের ম্যাচে একাই লড়াই করেছিলেন এই ওপেনার। ৩৪ বলে খেলেছিলেন ৪৪ রানের ইনিংস। সেই ফখর জামান আজ শরিফুলের উঠে আসা বল পুল করতে গিয়ে লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৮ বলে ৮ রান।
পঞ্চম ওভারে বল করতে এসেই হাসান নাওয়াজকে ফেরান তানজিম হাসান সাকিব। লিটনের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে ৬ বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি এই ব্যাটার। পরের বলেই মোহাম্মদ নাওয়াজকে লিটনের ক্যাচ বানান সাকিব। গোল্ডেন ডাক মেরে সাজঘরে ফেরেন এই ব্যাটার।
জিতলেই সিরিজ নিশ্চিত এমন ম্যাচে উইনিং কম্বিনেশন ভেঙে বাংলাদেশ একাদশে নিয়েছে নাঈম শেখ ও শরিফুল ইসলামকে। একাদশ থেকে বাদ পড়েছেন তানজিদ তামিম ও তাসকিন আহমেদ।
দুই পরিবর্তন নিয়ে ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালো হয়নি টাইগারদের। দ্বিতীয় ওভারেই ফাহিম আশরাফকে স্কুপ করতে গিয়ে উইকেটকিপারের হাতে ক্যাচ দেন নাঈম শেখ। ৭ বলে ৩ রান করেন এই বাঁহাতি ওপেনার। দলে ফিরে আগের সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে চারে নেমেছিলেন নাঈম। তাকে চার নম্বরে খেলানোর সিদ্ধান্ত ভালোভাবে নেয়নি টাইগার সমর্থকরা। সেই ম্যাচে ২৯ বলে ৩২ রানের ইনিংস খেলে সমালোচিত হন নাঈম নিজেও, বাদ পড়েন পরের দুই ম্যাচে। এবার পছন্দের পজিশনে নেমেও ব্যর্থ তিনি।
নাঈমের পর ক্রিজে আসা অধিনায়ক লিটন দাসও ফিরেছেন ক্যাচ দিয়ে। সালমান মির্জার করা পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ দেন লিটন। সাজঘরে ফিরেছেন ৯ বলে ৮ রান করে। প্রথম ম্যাচেও ব্যাট হাতে ব্যর্থ হয়েছিলেন টাইগার দলপতি, করেছিলেন ১ রান।
বাংলাদেশ একাদশ : তানজিদ হাসান তামিম, নাঈম শেখ, লিটন দাস (অধিনায়ক), তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, জাকের আলী অনিক, শেখ মেহেদী হাসান, তানজিম হাসান সাকিব, রিশাদ হোসেন, মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।
পাকিস্তান একাদশ : সাইম আইয়ুব, ফখর জামান, মোহাম্মদ হারিস, হাসান নওয়াজ, সালমান আলী আগা (অধিনায়ক), মোহাম্মদ নাওয়াজ, খুশদিল শাহ, ফাহিম আশরাফ, আব্বাস আফ্রিদি, সালমান মির্জা ও আহমেদ ড্যানিয়েল।


