মেঘকে আড়াল করে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) জমকালো আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গাছের চারা বিতরণ, নাচ, গান এবং কুইজ প্রতিযোগিতা। বর্ষাকাল উদযাপন করতে গ্রীন ভয়েসের এমন আয়োজন ক্যাম্পাসের আমতলা শিক্ষক শিক্ষার্থীদের মিলন মেলায় পরিণত হয়। শুক্রবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে অনুষ্ঠান শুরু হয়ে চলে রাত ১১টা পর্যন্ত।
মেঘে ঢাকা চারদিক আড়াল করতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) ক্যাম্পাসের আমতলাকে সাজানো হয় আলোকসজ্জায়। বর্ষাকে উদযাপন করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গ্রীন ভয়েস অনুষ্ঠানের নাম করণ করেন মেঘের আড়াল। অনুষ্ঠানে শতশত শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণীপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সেখানে কুইজ, নাচ এবং গানে অংশগ্রহণ করে উপহার হিসেবে শিক্ষার্থীরা পান ফল ও ঔষধী গাছের চারা। শিক্ষার্থীদের নিজ হাতে তৈরি খাবারের বিভিন্ন স্টল বসে। এমন আয়োজনে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা।
কৃষি অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী রিফাত বিনতে ইসলাম বলেন, একটি প্লাস্টিকের বোতল ঝুড়িতে ফেলে বিজয়ী হয়েছি। তাই গ্রীন ভয়েস আমাকে একটি গাছের চারা দিয়েছেন। তাদের উদ্যোগটি আমার খুবই ভালো লেগেছে। চারাটি ক্যাম্পাসে রোপণ করবো যা স্মৃতি হয়ে থাকবে।
অনেক হাসান নামে এক যুবক বলেন, আমি মাগুরা জেলার বাসিন্দা। এখানে ঘুরতে এসে প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে একটি গাছ পেয়েছি। চারদিক অন্ধকার, আম গাছের নিচে এমন অনুষ্ঠান। সত্যিই অসাধারণ ব্যাপার। এমন আয়োজন যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
গ্রীন ভয়েস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আফরান নিশো শিহাব বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে সবুজ ক্যাম্পাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের উৎসাহ জাগাতে এমন আয়োজন। আমরা কাউকে বিনামূল্যে গাছ দিচ্ছি না। গাছের গুরুত্ব বুঝাতে কুইজ ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দেয়া হচ্ছে। আমরা মনে করি এতে শিক্ষার্থীরা গাছের উপকার উপলব্ধি করবে। অনুষ্ঠানটি রাঙাতে নাচ, গানেরও আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণ করে ময়মনসিংহ ব্রহ্মপুত্র সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবুল কামাল আল আজাদ বলেন, বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য এমন উদ্যোগের কোন বিকল্প নেই। তরুণ তরুণীদের হাতেই আগামীর বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানটিকে তারা যে ভাবে সাজিয়েছে সত্যি সেটা প্রশংসনীয়।
জমকালো আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখে অভিভূত ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা
অধ্যাপক ড.মো.শহীদুল হক। তিনি বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে আরও বেশি করে এমন অনুষ্ঠান হওয়া প্রয়োজন। জুলাই বিপ্লবের চেতনায় জাগ্রত শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি সামাজিক কাজেও এগিয়ে যাচ্ছে। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনকে যেমন প্রফুল্ল করবে ঠিক তেমনি পরিবেশ রক্ষায় আগ্রহী করে তুলবে।
পড়ুন: কলমাকান্দায় বিস্ফোরক মামলার পলাতক আসামী পার্থ গ্রেপ্তার
দেখুন: মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি গণহত্যাকে স্বীকৃতির প্রস্তাব মার্কিন আইনসভায়
ইম/


