নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় অবস্থিত বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতালে চিকিৎসাক্রমে চরম অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারীকে অস্ত্রপ্রচার (সিজারিয়ান অপারেশন) করিয়ে সময়ের আগেই সন্তান প্রসব করানো হয়, যার ফলে এই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় সেবা না থাকায় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এরপর ঘটনাটি ভুক্তভোগীদের সঙ্গে আপোষ-মীমাংসা করে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আজ রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টে বিষয়টি ভাইরাল হলে ঘটনাটি আবারও আলোচনায় আসে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য জাহিদ হাসান বলেন, ২১ জুলাই রাতে তার বড় ভাই মোঃ কামরুল হাসানের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী নাবিলা বেগমের নির্ধারিত সময়ের আগেই হঠাৎ করে অস্ত্রপ্রচারের সিদ্ধান্ত নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কোনো রকম পূর্ণ চিকিৎসা পর্যবেক্ষণ বা উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা ছাড়াই, অপ্রস্তুত অবস্থায় অস্ত্রপ্রচার করা হয়। এতে গুরুতর জটিলতা দেখা দেয় এবং সদ্যোজাত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করে স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নবজাতকটির মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর অস্ত্রপ্রচার হওয়া ওই নারী সংকটাপন্ন অবস্থায় ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এদিকে, নবজাতকের মৃত্যুর পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি গোপন রাখতে পরিবারকে চাপ দেয় এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে। এতে পরিবারটি চরম মানসিক ও আইনি বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান, স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতালে চলে সিজারিয়ান অপারেশন বাণিজ্য, তাদের বিরুদ্ধে আগেও চিকিৎসায় অবহেলার একাধিক অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু কার্যকর তদন্ত বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা অব্যাহতভাবে রোগীদের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে হাসপাতালের একক মালিক আসিফ আল শেখের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “ছোট মাধবদী এলাকার কিছু লোক হাসপাতালে এসে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। পরে আমি বিষয়টি আমাদের স্টাফ ও রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে শুনেছি। তবে আমাদের কোনো অবহেলা বা গাফিলতি নেই। ওই অন্তঃসত্ত্বা নারীর ৩৬ সপ্তাহ ছিল এবং নবজাতকের ওজন ছিল দুই কেজির উপরে। কিন্তু মায়ের অবস্থা সংকটাপন্ন ছিল। স্বজনদের অনুরোধে ও চিকিৎসকের পরামর্শে অস্ত্রপ্রচার করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা হাসপাতালের ফি মওকুফ করেছি। এতে আমাদের দোষ নেই।”
এদিকে মাধবদীতে একের পর এক ভুয়া ও অদক্ষ হাসপাতালগুলো চিকিৎসা সেবার নামে সিজারিয়ান অপারেশন বাণিজ্য চালিয়ে এমন মৃত্যুর ঘটনা ঘটিয়ে আসছে, কিন্তু তা দেখার যেন কেউ নেই।
পড়ুন : মাধবদীতে টাকা না পেয়ে মায়ের মাথা ফাটালেন মাদকাসক্ত ছেলে থানায় অভিযোগ


