২০/০২/২০২৬, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
২০/০২/২০২৬, ৯:০৮ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চরফ্যাশনে লঘুচাপের প্রভাবে নদীর পানি বেড়ে খেজুর গাছিয়া বেড়িবাঁধে ভাঙন

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে লঘুচাপের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ার ও টানা বৃষ্টিতে লোকালয়ে বাড়ি ঘরে পানি প্রবেশ করেছে। পাশাপাশি নষ্ট হয়েছে মাছের ঘের পুকুর ও মাঠের ফসল। এছাড়াও হাজারীগঞ্জ ও জাহানপুর ইউনিয়নের খেজুরগাছিয়া গ্রামে লঘুচাপের প্রভাবে বেড়েছে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর পানি। এতে হাজারীগঞ্জ ও জাহানপুর ইউনিয়নের খেজুরগাছিয়া বেড়িবাঁধটিতে ভাঙন ধরেছে।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলের নদীগুলোতে স্বাভাবিক জোয়ারের তুলনায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে খেজুরগাছিয়া বাঁধটির প্রায় ৩শত ফুট রাস্তা ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশের ঝুঁকিতে রয়েছে। শুক্র ও শনিবার দুইদিনের বৃষ্টি ও মেঘনায় জোয়ারের চাপে পাউবোর বেড়িবাঁধে প্রায় ৩শত ফুট এলাকায় এ ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে রয়েছে দুইটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক গ্রামবাসী।

জানা যায়, ঘুর্ণিঝড় শক্তির আঘাতে ভাঙ্গণ দেখা দিলেও জরুরী মেরামতের বরাদ্ধ হয়। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ তাৎক্ষণিক জিও ব্যাগ ফেলে ব্যবস্থা নেয়া হলে বাঁধটি এতো দ্রুত ভেঙে যেতো না। এখন পর্যন্ত বাঁধ ভেঙে গ্রামে পানি না ঢুকলেও আগামী দু একদিনে এ বাঁধটি ভেঙে যাবে। এতে আতঙ্ক বিরাজ করছে ওই এলাকায়।

এ ঘটনায় স্থানীয়রা জানান, দ্রুত সংস্কার না করলে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধটি ভেঙ্গে গ্রামে পানি প্রবেশ করবে। এতে ঝুঁকির মধ্যে থাকবে দুই ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ।

হাজারীগন্জ ইউনিয়ন ৩নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হারুন দফাদার নাগরিক টেলিভিশনকে বলেন,বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, তা নগন্য। টেকসই বেড়িবাঁধ মেরামতের জন্য আরও বরাদ্দ করা উচিত।

হাজারীগন্জ ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড ( চরফকিরার) বাসিন্দা সিরাজুল ইসলাম বলেন,শুনছি গত মে/ জুনে ভেরিবাঁধ মেরামতের জন্য লাখ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়েছে, তখন দ্রুত কাজ করলে চরফকিরাসহ হাজারীগন্জ ও জাহানপুরের প্রায় ১লাখ মানুষ আতংকে থাকা লাগতো না। প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেয়া হউক। পাশাপাশি বাঁধ মেরামতের বরাদ্দ যেন যথাযথ ভাবে কাজে লাগানো হয়,সে বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজর রাখতে জোড় দাবি করেন তিনি।


চরফকিরা ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা চেয়ারম্যান বাজার ইসলামিয়া আলিম মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা মোঃ নুরে আলম নাসিম নাগরিক টেলিভিশনকে বলেন, স্হানীয় লক্ষাধিক মানুষের বসতবাড়ি,খামার ও ফসলী জমি বেড়িবাঁধের কারণে হুমকির মুখে আছে। দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ মেরামত করার দাবী করেন তিনি।


এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত খেজুর গাছিয়া ভেরিবাঁধ পরিদর্শন শেষে চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি এক ফেসবুক পোস্টে বলেন,খেজুরগাছিয়া বাঁধে জিও রোল দিয়ে ভাঙ্গা অংশ ঢেকে দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমলে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাটি ভরাট করে তার সামনে ড্যাম ফেলে ভাঙ্গন রোধ করা যাবে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড – এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা নাগরিক টেলিভিশনকে বলেন,, খেজুর গাছিয়া ভেরিবাধঁ মেরামতে ২টি প্যাকেজে (২৮+১৮) মোট ৪৬ লাখ টাকা জরুরি ভিত্তিতে গত জুনে বরাদ্দ হয়েছে। ২মাসের মধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ শেষ করতে হবে। বৃষ্টি কমলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করবে।

সচেতন মহলের দাবি প্যাকেজে নিধারিত ২মাসের মধ্যে যেন বেড়িবাঁধটি মেরামত করা হয়। তা না হলে একবার বাঁধ ভেঙে গেলে মেরামত করা কঠিন হয়ে যাবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে লক্ষাধিক মানুষের বসতবাড়ি, খামার ও ফসলের জমি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : চরফ্যাশনে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কর্মচারীদেরকে আর্থিক সহায়তা প্রদান

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন