নিহতের চার বছর পর দায়ের করা কুদরত আলী নামে আরেক বিএনপি কর্মী হত্যা মামলায় কুষ্টিয়ার সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এস এম তানভীর আরাফাতকে শোন এরেস্ট দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় আজ সোমবার (২৮ জুলাই) দুপুরে তাকে কারাগার থেকে কুষ্টিয়া আদালতে হাজিরা করা হয়। এরপর শুনানি শেষে তাকে শোন এরেস্ট দেখিয়ে আবারো কারাগারে পাঠানো হয়।
গত বছরের ২ অক্টোবর নিহত বিএনপি কর্মী কুদরত আলীর ছেলে ফেরদৌস বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় দৌলতপুর থানার তৎকালীন পরিদর্শক(তদন্ত) নিশিকান্ত সরকার, উপপরিদর্শক (এসআই) রোকনুজ্জামান, মেহেদী হাসান, শাহজাহান, আনিচুর রহমান ও এসপি পুলিশ সুপার(এসপি) এসএম তানভীর আরাফাতকে আসামী করা হয়। একই সঙ্গে এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের।
এর আগে কুষ্টিয়া মডেল থানায় বিএনপির আরেক কর্মী সুজন মালিথাকে গুলি করে হত্যা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেন তানভীর আরাফাত। এরপর গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর থেকে তিনি কুষ্টিয়া কারাগারে আছেন।
বর্তমানে উপপুলিশ কমিশনার তানভীর আরাফাত সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে সংযুক্ত ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি খুলনার খালিশপুরে।
মামলার এজাহারে জানা গেছে,নিহত কুদরত আলী বিএনপির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। এলাকায় তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা ও কিছু সুবিধাভোগী পুলিশ তাকে মিথ্যা মামলায় আটক ও হত্যা করার পরিকল্পনা করে। এরই অংশ হিসেবে ২০২০ সালের ২৩ জুলাই রাত ২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার মুন্সিগন্জ এলাকার নিজ বাড়ি থেকে আসামিরা কুদরত আলীকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়।
২৫ জুলাই ভোরে কুদরত আলীর পরিবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে তার গুলিবিদ্ধ লাশ পাই। এসময় কুদরত আলীর বুকের ডান ও বাম দিকে দু’টি গুলির চিহ্নসহ দুই হাতে, পিঠে, মুখে ও পায়ে আঘাতের চিহ্ন ছিল।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোলাইমান শেখ আজকের বলেন,দৌলতপুর থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় তাঁকে(এসপি তানভীর) গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছিল। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ শুনানী শেষে গ্রেপ্তারের আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
২০২০ সালের ২৫ জুলাই দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়,দৌলপুরে ডাংমড়কা সেন্টারমোড় এলাকায় একটি ইটভাটার কাছে বন্দুকযুদ্ধে কুদরত আলী(৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হন। পুলিশের দাবি, তিনি মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে অন্তত ছয়টি মামলা ছিল। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি,একটি ম্যাগাজিন, একটি দেশীয় অস্ত্র (হাসুয়া) ও ৪৩ বোতল ফেনসিডিল জব্দের কথা বলা হয়।
পড়ুন : http://ভেড়ামারায় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার বাড়িতে আগুন, ককটেল বিস্ফোরণ


