খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) দীর্ঘ পাঁচ মাস ১০ দিন পর একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল থেকে বৃষ্টি উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীরা শ্রেণি কক্ষে উপস্থিত হন। অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে ক্যাম্পাসে বইছে উৎসবের আমেজ।
মঙ্গলবার সকালে কুয়েট ক্যাম্পাসে দেখা যায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই ক্লাসে ফিরে আসায় অনেকটা উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ছাতা মাথায় দল বেঁধে ছুটছেন ক্লাসরুমের দিকে। কারও সঙ্গে অভিভাবকও এসেছেন। সকাল নয়টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি শিক্ষাবর্ষের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী ক্লাসে যোগ দেন। নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে শ্রেণি কর্মসূচি পর্যবেক্ষণ করেন।
মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এম নাহিদ রায়হান জিম বলেন, আমাদের ভার্সিটি পাঁচ মাসের উপরে বন্ধ থাকায় আমরা একটা মেন্টাল প্রেসারের মধ্য দিয়ে পার করেছি। আমাদের ফাইনাল ইয়ারের অনেকের পরীক্ষা আটকে ছিলো। পাশাপাশি তারা জব মার্কেটে ঢুকতে পারে নাই। যেখানে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করছে। আবার ক্লাস শুরু হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা চাই দ্রুত পরীক্ষা গুলো শেষ হয়ে সেশন জট দূর হোক।
লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী নিয়াজ মাহমুদ হামিম বলেন, যখন থেকে আমাদের ক্লাস শুরু হয়েছে সে হিসেবে আমাদের এখন ২য় সেমিস্টারে থাকার কথা। কিন্তু আমরা পিছিয়ে গেছি। ভিসি স্যারের কাছে চাওয়া এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পরীক্ষা শেষ করে আমাদের পরবর্তী সেমিষ্টারে উত্তীর্ণ করানো।
সিএসই বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী হাসিবুল হাসান বলেন, আমরা অনেকটাই আশাবাদী আমাদের নতুন ভিসি স্যারের নেতৃত্বে আমরা অনেক দূর এগিয়ে যাবো। কুয়েটে উদ্বুদ্ধ সকল সমস্যার নিরসন হবে।
কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী তাসফিয়া জামান সামিহা বলেন, আজকে থেকে ক্লাস শুরু হয়েছে। ক্লাসে ফিরতে পেরে ভালো লাগছে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেলো এই কয়মাসে। আমরা চাই না এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি হোক।
কুয়েটের ছাত্র পরিচালক আবদুল্লাহ ইলিয়াস আক্তার বলেন, আজ থেকে কুয়েটে ক্লাস শুরু হয়েছে। তবে এখনো সব শিক্ষার্থী আসেননি। যাঁদের কেবল ক্লাস রয়েছে, তাঁরা অংশ নিচ্ছেন। যাঁদের পরীক্ষা ছিল, তাঁরা প্রস্তুতির জন্য কিছুটা সময় চেয়েছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন হবে ১৪ আগস্ট, ক্লাস শুরু ১৭ আগস্ট।
কুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী বলেন, ক্লাস শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে সব কিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলাকে কেন্দ্র করে অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।
ওই দিন শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ওই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রথমে আন্দোলন শুরু করলে পরিস্থিতি সামাল দিতে ক্লাস ও হল বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর রমজান ও ঈদের ছুটিসহ সব মিলিয়ে লম্বা ছুটির পর গত ১৩ এপ্রিল শিক্ষার্থীরা জোর করেই ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন। এর আগে তাদের দাবির মুখে কুয়েটের তৎকালীন ভিসি ও প্রোভিসিকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়। পরে ১ মে অন্তর্বর্তীকালীন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলীকে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনিও ২২ মে পদত্যাগ করেন।
এর আগে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার অভিযোগে ৪ মে আন্দোলনে যায় শিক্ষক সমিতি। দুই মাস দুই দিন ভিসিবিহীন থাকার পর গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক (অব.) ড. মো. মাকসুদ হেলালীকে কুয়েটের ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চার বছর মেয়াদে নিয়োগ পেয়ে পরদিন ২৫ জুলাই শুক্রবার ছুটির দিনেই তিনি যোগদান করেন। ২৬ ও ২৭ জুলাই নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদ হেলালী দিনভর বৈঠক আলোচনা করেন।
গতকার সোমবার (২৮ জুলাই) উপাচার্যের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন কমিটির উন্মুক্ত আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সবার সহযোগিতার জন্য সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারে সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে আজ মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। ফলে অনেকটাই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে কুয়েট ক্যাম্পাস।
পড়ুন: বাংলাদেশ মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের খুলনা বিভাগীয় কমিটি গঠন
এস/


