খাগড়াছড়ি পৌর শহর এলাকায় কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে মানুষের চলাচলের জন্য তৈরি করা ফুটপাত দখল করে রেখেছে বাজার ব্যবসায়ীরা। মনে হচ্ছে দোকানিদের নিজেদের সম্পদে পরিনত হয়েছে। এসব দেখার কেউ নেই পৌরসভায়। যে যার মতো ব্যবহার করছে ফুটপাত। দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে বাজার করতে আসা সাধারণ মানুষ।
পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলোর ফুটপাত এখন আর পথচারীদের চলাচলের জায়গা নয়—সেগুলো দখল করে নিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পণ্যের ডালা, অস্থায়ী দোকান, কাঠের স্টল, এমনকি প্লাস্টিকের মাল দিয়ে পুরো ফুটপাত জুড়ে চলছে ব্যবসা। ফলে সাধারণ পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং প্রতিদিনই বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত এসব ফুটপাত দখল করে রাখা হয় পণ্যসামগ্রী, খাবার দোকানের চুলায় খাবার তৈরি, দোকানের ছাউনি ও অস্থায়ী টংঘর দিয়ে। এতে করে পথচারীদের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে যানজট, এবং বাড়ছে জনদুর্ভোগ।
বাজারে গেলে ফুটপাতে একটু হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় উঠতে হয়, কারণ ফুটপাত দখল করা। এটা খুব বিপদজনক, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য।”
বিশেষ করে শাপলা চত্তর, শুটকি বাজার, মাছ বাজার, বাঙ্গাব্রীজ ও মসজিদ সড়কসহ পৌর শহরের মানুষ চলাচলের জন্য যে সকল ফুটপাত রয়েছে তা এখন শুধুই ব্যবসায়ীদের দখলে। এসব দেখার কেউ নেই। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে মালামাল রাখার স্থান করে নিয়েছে এই ফুটপাত। দেখলে মনে হবে সরকারি কোটি টাকা খরচ করে ব্যবসায়ীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে এসব। বাজার করতে আসা মানুষজনকে গাড়ি থেকে নেমে পড়তে হয় মূল সড়কে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
স্থানীয়রা বাসিন্দা বাজার করতে আসা মহিউদ্দিন জানান, ফুটপাত দিয়ে হেঁটে বাজারে ঘুরা অসম্ভব। এটি তৈরি করা হয়েছে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। বাজারের চারপাশের সব ফুটপাত দখল করেছে ব্যবসায়ীরা। সাধারণ মানুষ কিছু বললে উল্টো কথা শুনতে হয় সাধারণ মানুষকে। এতেকরে ভোগান্তি দিনের পর দিন বেড়েই চলছে।
বাজার করতে আসা হাসানুল করিম জানান, বাজারের মানুষের চলাচলের জন্য করা হয়েছে ফুটপাত। কিন্তু অধিকাংশ ফুটপাত দোকানদাররা দখল করে রেখেছে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। আমরা চাই প্রশাসন ফুটপাত থেকে এসব অবৈধ মালামাল সরিয়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচলের সুযোগ করে দিবে।
পুটপাতে মালামাল রেখে ব্যবসা করা ব্যবসায়ীরা জানান, সবাই রাখে তাই আমরাও রাখি। এসব মালামাল রাখার জন্য কাউকে টাকা দিতে হয়না। আমরা নিজের ইচ্ছে মতো রাখি মালামাল। প্রশাসন বললে আমরা সরিয়ে নিয়ে যাবো।
পৌর প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, মাইকিং করে বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের জানানো হবে। এটাই চুড়ান্ত। এরপর আমরা অভিযান চালিয়ে ফুটপাতে যা পাবো সবকিছু উচ্ছেদ করে নিয়ে আসবো। কারো কোনো অনুরোধ রাখা হবেনা।
পৌর কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপের অভাবে ফুটপাত দখল একটি স্থায়ী সমস্যায় রূপ নিচ্ছে। সাধারণ জনগণের চলাচলের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। উন্নয়নমূলক শহরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এটি একটি বড় বাধা।
এই সমস্যা খাগড়াছড়ি শহরের সৌন্দর্য ও নিরাপত্তা—দুয়ের জন্যই হুমকি। দখলদারদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, সচেতনতা কার্যক্রম এবং নির্দিষ্ট হকার জোন তৈরি না করলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
পড়ুন: খাগড়াছড়ি রিজিয়নের তত্ত্বাবধানে নারী ফুটবল দল গঠিত
এস/


