আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাগেরহাট জেলার সংসদীয় আসনের সংখ্যা চার থেকে তিনে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের কারিগরি কমিটি। এই খসড়া সুপারিশ প্রকাশের পর থেকেই জেলার বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, ভোটার সংখ্যা ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় দেশের সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে বাগেরহাটে একটি আসন কমিয়ে তিনটি আসন রাখার প্রাথমিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পুনর্বিন্যাস অনুযায়ী, বাগেরহাট-১ আসনে চিতলমারী, ফকিরহাট ও মোল্লাহাট, বাগেরহাট-২-এ সদর, কচুয়া ও রামপাল এবং বাগেরহাট-৩-এ মোংলা, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা অন্তর্ভুক্ত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এই খসড়া প্রকাশের পর থেকেই জেলায় বিরূপ প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ জনগণ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করছেন। তাদের দাবি, বাগেরহাট জেলার আয়তন প্রায় ৩,৯৫৯ বর্গকিলোমিটার এবং জনসংখ্যা ১৬ লাখের বেশি। এত বড় একটি জেলায় চারটি আসনই যথাযথ, বরং আসন কমালে তা উন্নয়ন কর্মকান্ড ও জনগণের প্রতিনিধিত্বকে ব্যাহত করবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা বিএনপি ও জামায়াতের নেতৃবৃন্দ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
এর আগে বাগেরহাট জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে। এছাড়া বাগেরহাটের অন্যান্য উপজেলাগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে ।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম বলেন, ১৯৮৪ সাল থেকে বাগেরহাট চারটি আসন নিয়ে গঠিত। এই ঐতিহ্যবাহী জেলাকে তিনটি আসনে রূপান্তরের প্রস্তাব শুধু নিন্দনীয় নয়, অপমানজনকও। এটি একটি পরিকল্পিত চক্রান্ত।
বাগেরহাট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ সালাম বলেন, বাগেরহাটের উন্নয়ন এমনিতেই পিছিয়ে। এখন আসন কমানো হলে তা আরও বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি আরও বলেন, আসন কমানোর সিদ্ধান্ত কোনভাবেই বাগেরহাটের মানুষ মেনে নেবে না। এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে না আসলে আমরা আরও কঠোর বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনে বাধ্য হব।
জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা রেজাউল করিম বলেন, সুন্দরবনের মতো বিশ্ব ঐতিহ্য যেখানে রয়েছে, সেই জেলাকে দুর্বল করতে একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি করছি।
এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য খান মনিরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবন, ষাটগম্বুজ মসজিদ ও মোংলা বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা থাকা সত্ত্বেও বাগেরহাটকে অবহেলা করা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী বিন্যাস অনুযায়ী বাগেরহাট-১ (চিতলমারী, ফকিরহাট, মোল্লাহাট), বাগেরহাট-২ (সদর ও কচুয়া), বাগেরহাট-৩ (মোংলা ও রামপাল), এবং বাগেরহাট-৪ (মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলা) আসনে বিভাজিত ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এভাবেই জেলার রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

