দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা ভয়াবহ গৃহযুদ্ধে সুদানে প্রাণ হারিয়েছে দেড় লাখের বেশি মানুষ। জাতিসংঘ জানিয়েছে, এটি বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট। সংঘাতের কারণে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে, আর দেশে ব্যাপক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে।
এই সংঘাত শুরু হয় ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে, যখন সুদানের সেনাবাহিনী ও আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ) ক্ষমতার লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৯ সালে প্রেসিডেন্ট ওমর আল-বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সামরিক ও বেসামরিক সরকারের দ্বন্দ্ব থেকেই এই সংকটের মূল সূত্রপাত।
বর্তমানে সেনাপ্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল-বুরহান নেতৃত্বাধীন বাহিনী দেশটির উত্তর ও পূর্বাঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করছে, আর জেনারেল মোহাম্মদ হামদান দাগালো (হেমেডটি) নেতৃত্বাধীন আরএসএফ দারফুর ও দক্ষিণাঞ্চলের বড় অংশ দখল করেছে।
এল-ফাশের শহর দখলের পর আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যা ও ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, আরব নয় এমন জাতিগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
সুদানের অর্থনীতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। রাষ্ট্রীয় রাজস্ব প্রায় ৮০ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের অন্যতম স্বর্ণ উৎপাদক দেশ হলেও সাধারণ নাগরিকের বার্ষিক আয় গড়ে মাত্র ৭৫০ ডলারের কম।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি আরএসএফ পৃথক সরকার গঠনের চেষ্টা করে, তবে সুদান আবারও বিভক্ত হতে পারে—যেমন ঘটেছিল ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার সময়।
পড়ুন: যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে গাজায় ইসরাইলি হামলা অব্যাহত, ত্রাণ প্রবেশে বাধা


