বিজ্ঞাপন

সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা ও সঙ্গবদ্ধভাবে কাজের বিকল্প নেই

আজ (২৯ জুলাই ২০২৫), বর্জ্য অব্যবস্থাপনার ফলে সৃষ্ট জনদুর্ভোগের বাস্তবচিত্র অনুধাবন এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) “পরিবেশগত অধিকার সুরক্ষায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা” শীর্ষক এক গণশুনানির আয়োজন করে পর্যটন ভবনের শৈলপ্রপাত মিলনায়তনে।

বিজ্ঞাপন

গণশুনানিতে ভুক্তভোগী নাগরিক, সিটি কর্পোরেশন, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিবৃন্দ, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, শিক্ষাবিদ, পরিবেশবিদ, নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবেশ অধিদফতর, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

মূল উপস্থাপক হিসেবে বেলার প্রধান নির্বাহী তাসলিমা ইসলাম বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শুধু একটি পরিবেশগত অধিকার নয়, এটি একটি মানবাধিকার। ঢাকা ইতোমধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় অযোগ্য বসবাসযোগ্য শহর হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে এখনই সঠিক সময় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের।”

তিনি আরও বলেন, “জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ন, অপর্যাপ্ত ও অদক্ষ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সীমিত পুনর্ব্যবহারযোগ্য পরিকাঠামো, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন এবং নাগরিক দায়িত্ববোধের অভাব এসব মিলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।” তিনি আর বলেন মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল থেকে নির্গত মিথেন গ্যাস একটি গুরুতর পরিবেশগত হুমকি।

বর্জ্য ব্যাবস্থাপনায় লিগ্যাল ফ্রে্মওরক নিয়ে আলোচনায় উঠে আসে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ যা কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য অপর্যাপ্ত। পরিবেশ সংরক্ষণ বিধি ২০২৩- শিল্প বর্জ্যের উপর দৃষ্টি নিবদ্ধ করে এবং বর্জ্য সংগ্রহ এবং পরিবহনকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিটি কর্পোরেশনের অন্যতম দায়িত্ব হলেও বাস্তবায়নের স্পষ্ট রূপরেখা নেই, তবে অনির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলা শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং একটি স্থায়ী কমিটি গঠনের বিধান রয়েছে। কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিধিমালা, ২০২১-এ স্পষ্ট নির্দেশনা না থাকায় বাস্তবায়নে চরম ঘাটতি দেখা যাচ্ছে।

মোহাম্মদ আলী হোসেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন, “ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে আমরা প্রতিদিন কাজ করি, কিন্তু বাসাবাড়ি, দোকান, এমনকি রাস্তায়ও মানুষ ময়লা ফেলে যাচ্ছে। বলেও কাজ হয় না। এমনভাবে প্রচার করতে হবে যেন কেউ রাস্তায় ময়লা ফেলতে না পারে। ড্রেনের ঢাকনা না থাকায় এবং ওয়াসার পাইপ বসানোর জন্য ড্রেন ভেঙে যাওয়ায় ময়লা সরাসরি নালায় গিয়ে পড়ে। যেখানে প্রিজম কাজ করতে পারছে না, সেখানে সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”

রাকিবুল হাসান সমাজকর্মী, কেরানীগঞ্জ বলেন, “প্রতিটি শিশুকে পরিবার থেকেই শিক্ষা দিতে হবে, যাতে আমরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রস্তুত করতে পারি।

শাহরিয়ার হোসেন, সভাপতি এসডো বলেন, “বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। এটি কোনো একক সংস্থার কাজ নয়। আমি যদি নিজের বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলি, তবে আমি সচেতন নই। সুনাগরিক হতে চাইলে আমাদের নিজেদের থেকে শুরু করতে হবে, সম্মিলিত প্রয়াস ছাড়া কোনো সমাধান সম্ভব নয়।”

মারুফ মায়মিন, সহকারী পরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর, “পরিবেশ সংরক্ষণ আইনে ফাঁকফোকর থাকায় কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে। শুধু বর্জ্য নয়, পরিবেশের প্রতিটি ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। জিরো ওয়েস্ট নীতি বাস্তবায়নে ডিসপোজাল সিস্টেমে ভ্যালু তৈরি ও সমন্বিত কার্যক্রম প্রয়োজন।পরিবেশ অধিদপ্তরের মানবসম্পদের অভাব বড় চ্যালেঞ্জ।”

আবু কাওসার, ডেপুটি টাউন ট্রেইনার, রাজউক বলেন, “আঙিনা পরিষ্কার না রাখলে জরিমানা কিংবা কর বাড়ানোর বিধান রয়েছে। রাস্তার দোকানগুলোকেও নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। আইন প্রয়োগ এমনভাবে করতে হবে যেন কেউ নিয়ম ভাঙার সাহস না পায়। বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সামাজিক দায়িত্ব আরোপের সুযোগ আছে। প্রচার ও বিজ্ঞাপন বাড়ানো জরুরি।”

মোস্তাফিজুর রহমান, সিনিয়র রিসার্চ অফিসার, ওয়েস্ট কনসার্ন বলেন, “সচেতনতা নয়, এখন দরকার বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা। ঘর থেকে নীতিনির্ধারণ পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করতে হবে।”

ক্যাপ্টেন রাকিব উদ্দিন ভুঁইয়া, পরিচালক প্রিজম বাংলাদেশ বলেন, “প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার ঘাটতি রয়েছে।পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজ মানুষ বুঝতে পারে না। ১০০ কর্মীর মধ্যে কার্যত ৪০ জন কাজ করেন, বাকিদের রাজনৈতিক কাজে ব্যবহৃত।এবং তারা অবহেলিত। ”

তিনি আরও বলেন, “পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব শুধু সিটি কর্পোরেশনের নয়, নাগরিকদেরও নিজ নিজ অংশ পালন করতে হবে। কার্যকর মনিটরিং, ইনফর্মাল সেক্টরের ফরমালাইজেশন ও আধুনিকীকরণ জরুরি, কাচাবাজারগুলোতে প্লাস্টিক বোতল বা পলিথিন ব্যবহার নিষিদ্ধ উদ্যোগ জরুরি।

ড. জসিম উদ্দিন, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: “বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি, বিশেষ করে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে। সেক্ষেত্র এমএউ এর মাধ্যমে বর্জ্য ব্যাবস্থাপনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সংযুক্ত করা। পাশাপাশি বর্জ্য ব্যাবস্থাপনায় বাওলোজিকাল প্রযুক্তি ব্যাবহার করে কিভাবে এনার্জি তৈরি করা যায় সে দিকটি আমাদের বিবেচনায় নিতে পারি।”

এস. এম. শফিকুর রহমান, প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ বলেন, “জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষায় সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা অপরিহার্য। আমরা স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। আমিনবাজারে ৫১ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সেখানে বর্জ্য সেগ্রিগেশন, স্কুল ক্যাম্পেইনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত ফল আসেনি। আমাদের পরিকল্পনায় ৩.৬ একর মেডিকেল, ২.৫ একর ই-ওয়েস্ট, ১.২০ একর প্লাস্টিক, ৩.৫ একর নির্মাণবর্জ্য এবং ৩ একর সরাসরি ডাম্পিংয়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ওয়েস্ট টু এনার্জি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, যা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।”

মাহবুবুর আলম, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধি বলেন, “বর্জ্য সংগ্রহ, পরিবহন ও নিষ্পত্তি আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রতিটি বাসায় ময়লা রাখার নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ জরুরি। বাড়ির বর্জ্য সংগ্রহে এসএসটি (সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন) থেকে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে ৮১ একর নতুন জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে যেখানে বিভিন্ন ধরনের বর‍্যর জন্য বিভিন্ন ভাগ থাকবে তবে নাগরিকদের সচেতনতা বাড়াতে না পারলে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্ভব নয়।”

সুমনা শারমিন, নগর পরিকল্পনাবিদ, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন বলেন, “গাজিপুর বলতে আমরা বুঝি রাস্তার দুই পাশে ময়লা। কোন বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার নাই । গাজিপুর এ প্রতিদিন ৪০০০ মেট্রিক টন বর্জ্য তৈরি হয় জেখাবে জনসংখ্যা ঢাকা থেকে অনেক কম। একটা প্রধান সমস্যা হল মানুষের বর্জ্য ফেলার ক্ষেত্রে অভ্যাস ভাগে ভাগে ময়লা ফেলা। সিটি করপরাশনের কাজের পাশাপাশি মানুষকেও সছেতন হতে হবে। যত্রতত্র ময়লা না ফেলে মানুষ নিয়ম না মানে তাহলে বর্জ্য ব্যাবস্থাপনার কাজটি কঠিন হয়ে যায়।“

গণশুনানিতে অনশগ্রহঙ্কারিদের বক্তব্য থেকে উঠে আসা গুরতুপরুন সুপারিশসমূহ হল – রাজনৈতিক সদিচ্ছা জরুরি। কোম্পানিগুলোকেও তাদের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য নির্দিষ্ট ব্যবস্থা রাখতে হবে, আইনি কাঠামোর বাস্তবায়ন জোরদার করা, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কমিউনিটি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি, বর্জ্য থেকে শক্তি উৎপাদনের উদ্যোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনঅভিযোগ ব্যবস্থাপনা চালু করা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, রুয়ান্ডার মতো দেশগুলোর সফল মডেল বিবেচনায় নেওয়া।

আইনি ও নীতি কাঠামোর যে গ্যাপগুলো আলোচনায় উঠে এসেছে সেগুলো হল নিয়মের দুর্বল প্রয়োগ, স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে অপর্যাপ্ত সমন্বয়, অনানুষ্ঠানিক খাত এখনও সম্পূর্ণরূপে সমন্বিত নয়, জবাবদিহিতার অভাব, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পুনর্ব্যবহারের জন্য প্রণোদনার অভাব।

গনশুনানিতে সবার বক্তব্য শুনে মোহাম্মদ এজাজ, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন দুটি প্রস্তাবনা করেন নীতিগত বা পলিসিভিত্তিক দিকনির্দেশনা এবং আরেকটি হচ্ছে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ বা কোর্স অব অ্যাকশন। “আমরা যে বাস্তবতা দেখছি, সেটিই হলো আমাদের প্রেক্ষাপট। প্রশ্ন হচ্ছে, কোথা থেকে শুরু করব? একটি হচ্ছে।নীতিগতভাবে কী কী করা যায়, কী হবে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা—তা নির্ধারণ জরুরি। সিটি লেভেলে কী করা হবে তাও সুস্পষ্ট হওয়া দরকার।“

তিনি আর বলেন বর্জ্য থেকে জ্বালানি উৎপাদন (waste-to-energy) নিয়ে চিন্তা করা হচ্ছে। বাস্তবভিত্তিক সমাধান হিসেবে প্রাথমিকভাবে পৃথকীকরণ (waste segregation) ব্যবস্থাকে গুরুত্ব দিতে হবে। কিন্তু STS (secondary transfer station) মানুষ বাসার পাশে চায় না। অন্যদিকে, ল্যান্ডফিল একটি পুরোনো পদ্ধতি, এবং তাও আমরা ঠিকভাবে বাস্তবায়ন করতে পারছি না।প্রশ্ন হচ্ছে—এই দায়িত্ব কে নেবে? সরকার না বেসরকারি খাত?

তিনি আর বলেন, “ওয়েস্ট পার্ক’ করতে হবে, যেখানে বেসরকারি খাতকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্থান দেওয়া যেতে পারে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে একটি শিল্প হিসেবে ভাবা প্রয়োজন। ইতোমধ্যে কিছু প্রতিষ্ঠান এটি করছে। সিস্টেমেটিকভাবে কাজ করলে পরিবেশগত ঝুঁকি কমানো সম্ভব। বর্তমানে বিচ্ছিন্নভাবে কাজ হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশগত হুমকি তৈরি হচ্ছে। ক্যাম্পেইনের জন্য বাজেট বাড়ানো দরকার। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।“

এছাড়া, সিটি কর্পোরেশনের অধীনে একটি ‘ডেডিকেটেড পুলিশ বাহিনী’ যারা জরিমানা আরোপ ও নাগরিকদের নিয়ম মানাতে ভূমিকা রাখতে পারবে থাকা উচিত যার জন্য কর্পোরেশন কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।

পটভূমি:

রাজধানী ঢাকা ইতোমধ্যে বিশ্বের ৩য় অবসবাসযোগ্য নগরী হিসেবে গ্লোবাল লিভেবিলিটি ইনডেক্সে স্থান পেয়েছে। বর্জ্যরে চরম অব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিদিনই জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। উৎপাদিত বর্জ্যের বড় একটি অংশ খাল, নদী ও জলাশয়ে গিয়ে জলাবদ্ধতা ও পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, পরিবেশগত অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বেলা বিগত দুই যুগের বেশি সময় ধরে জনস্বার্থে আইনগত পদক্ষেপ, সচেতনতা বৃদ্ধি, গবেষণা এবং পরামর্শ প্রদানসহ নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

পড়ুন: রংপুরে হিন্দু পাড়ায় হামলার ঘটনায় গ্রেফতার ৫

দেখুন: লিবিয়ায় ক্যান্সার চিকিৎসায় অর্থায়ন করছে ‘বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন