32 C
Dhaka
মঙ্গলবার, জুলাই ১৬, ২০২৪
spot_imgspot_img

সিলেট-সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, ৬০ লাখ মানুষ পানিবন্দি

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হয়েছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ পানিবন্দি। দুই জেলায় বন্যা কবলিতদের জন্য খোলা হয়েছে সাড়ে ১১শ আশ্রয়কেন্দ্র। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল- দুই দিনে সিলেট অঞ্চলে ২০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের। সেই পূর্বাভাসই সত্যি হলো। গত ২৪ ঘন্টায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া বিভাগ। আজ সকালেও বৃষ্টি হয়েছে ৫৫ মিলিমিটার। এরমধ্যেই ফের ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস এসেছে।

সাথে যোগ হওয়া উজানের পাহাড়ি ঢলে বাড়ছে নদনদীর পানি। সিলেটের ৩টি নদীর পানি ৬ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

জেলার প্রায় ৬ লাখ ২৬ হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। রাস্তাঘাট ডুবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায়, কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাটের সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সুরমা বড়ইকান্দি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র রক্ষায়, স্থানীয় প্রশাসনের সাথে কাজ করছে সেনাবাহিনী।

সুনামগঞ্জে সুরমাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে, ছাতক, দোয়ারাবাজার, শান্তিগঞ্জ, মধ্যনগর, বিশ্বম্ভরপুর, তাহিরপুর ও জগন্নাথপুরে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে। পানিবন্দি প্রায় ২০ লাখ মানুষ। জেলা শহরের সাথে তাহিরপুর ও বিশ্বম্ভরপুরের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে গত ২৪ ঘন্টায় ৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ছাতকে সুরমার পানি বিপদসীমার ১৫৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দোয়ারাবাজারে খাশিয়া মারা নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

বন্যা কবলিতদের জন্য ৫১৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায়, টাঙ্গুয়ার হাওরসহ তাহিরপুর উপজেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করেছে উপজেলা প্রশাসন।  

বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এবারের বন্যা ২০২২ সালের মতো ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এদিকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে পরিস্থিতি আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

spot_img
spot_img

আরও পড়ুন

spot_img

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

বিশেষ প্রতিবেদন