বিজ্ঞাপন

অভিষেকের ভেন্যু থেকেই বিদায় রুবেলের

ভেজা চোখ দেখাবেন না বলেই হয়তো কালো গ্লাস পরে এসেছিলেন, মনের সব ব্যথা ক্যামেরার সামনে বলবেন না বলেই হয়তো চলে গিয়েছিলেন সেই বাইশ গজের কাছে। হাঁটু গেড়ে বসে ছুঁয়েছিলেন মিরপুরের পিচ। স্পর্শ করেছিলেন পবিত্র সেই বেদি, তার সঙ্গে কোনো কথা বলেছিলেন কি রুবেল হোসেন? ১৭ বছরের কত স্মৃতি যে জড়িয়ে তাঁর এই পিচের সঙ্গে, কত ঋণ জমে আছে তাঁর এই মাটির সঙ্গে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণার পর তার সঙ্গে সম্পর্ক চুকে গেছে রুবেলের।

বিজ্ঞাপন

গতকাল সোমবার ছিল তাঁরই বিদায় সংবর্ধনা। সংবর্ধনা বলতে যে মহাযজ্ঞ চোখের সামনে ভেসে ওঠে, ওই রকম না হলেও সম্মানের একটি মঞ্চ পেয়েছেন রুবেল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংক্ষিপ্ত এক অনুষ্ঠান করে সম্মান জানায় জাতীয় দলের সাবেক এই পেসারকে। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরুর আগে হয় অনুষ্ঠানটি। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের উপস্থিতিতে একটি ক্রেস্ট ও ফ্রেমে বাঁধানো তিন সংস্করণের জার্সি দেওয়া হয় তাঁকে।

এই যে ১৫ মিনিটের একটি বিদায় অনুষ্ঠান হলো, তার পরতে পরতে ছিল ভালোবাসা ও সম্মান। ওই যে ভিআইপি গ্যালারি থেকে কেউ একজন বললেন, ‘ভালো থাকবেন রুবেল ভাই।’ একজীবনে এটাও তো কম প্রাপ্তি নয়।

ফেসবুকে রুবেল হোসেনের জীবনধর্মী স্ট্যাটাসগুলো মনকে নাড়া দেওয়ার মতো। ক্রিকেটের বাইরেও যে একটা জগৎ আছে, তা তিনি বিভিন্ন সময় প্রকাশ করেছেন লেখনীতে। তাঁর সেই জগৎজুড়েও যে ক্রিকেট ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কারণ ক্রিকেট তাঁর পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের সব সত্তাজুড়ে। ক্রিকেট দিয়েই তো আজকের রুবেল হয়ে ওঠা তাঁর। তাই তো খেলা থেকে অবসর নিলেও ক্রিকেটের স্বত্ব ছাড়েননি। তিনি ফিরবেন অন্য ভূমিকায়, কোচ হয়ে। 

গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বিদায় অনুষ্ঠান শেষে প্রেস বক্সে এসে খানিক সময় আড্ডায় কোচিং পেশায় যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। রুবেল হোসেন জাতীয় দলে খেলছেন না পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে। ২০২১ সালে ১ এপ্রিল শেষ ম্যাচ খেলেছেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে অকল্যান্ডে। সেই কিউইদের বিপক্ষে মিরপুরে জাতীয় দলের দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরুর আগে তাঁকে বিদায় দেওয়া হয়। জাতীয় দল সতীর্থরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে অগ্রজকে সম্মান জানান। 

বিদায় অনুষ্ঠানে রুবেল বলেন, ‘আজকে এত সুন্দর একটি পরিবেশ তৈরি করেছে, এত সুন্দরভাবে আমাকে সম্মানিত করেছে, এজন্য বিসিবি ও আমাদের সভাপতি তামিম ইকবালকে আন্তরিক ধন্যবাদ। আমাকে পেসার হান্ট থেকে নিয়ে এসে যে মানুষটা আমাকে ওপরে ওঠার সিঁড়ি ধরিয়ে দিয়েছেন, তিনি আমার প্রিয় কোচ আমার শ্রদ্ধেয় সরওয়ার ইমরান স্যার। স্যারের প্রতি সারা জীবন কৃতজ্ঞ থাকব। ছোটবেলা থেকে স্কুল টুর্নামেন্ট থেকে শুরু করে আমার সব কোচ এবং জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে আমার ফিজিও এবং আমাদের গ্রাউন্ডসকর্মী থেকে শুরু করে কোচদেরকে সবাইকে আমি আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, যারা আমাকে অনেক সমর্থন দিয়েছেন, সাহস জুগিয়েছেন এবং আমার পাশে ছিলেন।’

সাধারণ পরিবারের সন্তান রুবেল হোসেনের অসাধারণ হয়ে ওঠার পেছনে মা-বাবার অবদান সবচেয়ে বেশি ছিল। সেই পিতা-মাতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন নিঃস্বার্থ ভালোবাসা দিয়ে গড়ে তোলায়।

পড়ুন:ক্যান্সার হাসপাতালের উপপরিচালককে কুপিয়ে জখম, গ্রেপ্তার ৫

দেখুন:ভেসে উঠেছে ইরানের মি/সা/ই/ল সিটি, আন্তর্জাতিক সব খবর |

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন