আজ চৈত্র সংক্রান্তি—বাংলা বছরের শেষ দিন। বাংলা পঞ্জিকার ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ আজ শেষ হচ্ছে; বিদায় নিচ্ছে আরেকটি বছর। আগামীকাল মঙ্গলবার পহেলা বৈশাখের মধ্য দিয়ে শুরু হবে নতুন বাংলা বর্ষ ১৪৩৩।
চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি মাস বা বছরের সমাপ্তি নয়; এটি পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণ করার প্রতীকী দিন। সারা বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে পেছনে ফেলে নতুন সূচনার প্রত্যাশাই এ দিনের মূল তাৎপর্য।
আবহমান বাংলার ঐতিহ্য বহন করে আসছে এই দিনটি। প্রতি বছর চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা আয়োজন ও উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। গ্রামবাংলায় এ দিনের প্রধান আকর্ষণ চড়ক উৎসব, যা গাজন উৎসবের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হয় এবং শিবতলা কেন্দ্র করে নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়।
চৈত্র সংক্রান্তির দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র অনুযায়ী স্নান, দান, ব্রত ও উপবাস পালন করেন। এছাড়া অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও নিজ নিজ বিশ্বাস ও সংস্কৃতির আলোকে বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এ দিনকে ঘিরে বসে গ্রামীণ মেলা। পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, পটচিত্র, যাত্রাপালা, লোকসংগীত ও নৃত্য আয়োজন এ দিনটিকে করে তোলে প্রাণবন্ত।
ব্যবসায়ীদের কাছেও দিনটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। পুরোনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন বছরের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে দোকানপাট সাজিয়ে তোলা হয়, যাতে পহেলা বৈশাখে নতুন হালখাতা খোলা যায়।
সময়ের পরিবর্তনে, বিশেষ করে শহুরে জীবনে চৈত্র সংক্রান্তির কিছু ঐতিহ্য ম্লান হলেও গ্রামবাংলায় এখনো এর প্রাণচাঞ্চল্য অটুট রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনও এ ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও বিস্তারে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করছে।
পড়ুন: গরমের দাপট চলবে ১৩ দিন, তাপমাত্রা উঠতে পারে ৪০ ডিগ্রিতে
আর/


