রঙিন সুতোয় বোনা স্বপ্ন আর আধুনিক ডিজাইনের এক অনবদ্য প্রদর্শনী হয়ে গেলো আর. পি. সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের হাত ধরে অনুষ্ঠিত হওয়া দিনব্যাপী এই ‘ফ্যাশন ফিয়েস্তা ২০২৬’ কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং এটি ছিল তরুণ ডিজাইনারদের আগামীর ফ্যাশন বিশ্বে পা রাখার এক শক্তিশালী ঘোষণা।
গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বর্ণিল ফিতা কেটে একাডেমিক এক্সিবিশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির শুভ সূচনা হয়। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনীন্দ্র কুমার রায়। বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক তানজিল হাসনাইন মঈন রনিত।

একাডেমিক এক্সিবিশনে শিক্ষার্থীরা তাদের সারাবছরের সাধনা ও নতুন সব উদ্ভাবনী নকশা প্রদর্শন করেন। পোশাকের বুনন থেকে শুরু করে স্কেচিং—প্রতিটি ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের মুন্সিয়ানা ফুটে ওঠে। একাডেমিক প্রদর্শনীতে ফল ২০২৫ এবং স্প্রিং ২০২৫ সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা তাদের পাঠ্যক্রমভিত্তিক সৃজনশীল কাজ উপস্থাপন করেন। পেন, পেন্সিল, কালার, ম্যানুয়াল ও ডিজিটাল ইলাস্ট্রেশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে নির্মিত এসব কাজ দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে। পরবর্তীতে বর্ণাঢ্য ফ্যাশন শোতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের তৈরি পোশাকের মাধ্যমে সমকালীন ও ফিউশন ফ্যাশনকে মঞ্চে জীবন্ত করে তোলেন।
এবারের আয়োজনে বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ‘মিস ইউনিভার্স বাংলাদেশ’ খ্যাত জনপ্রিয় মডেল ও চলচ্চিত্র অভিনেত্রী তানজিয়া জামান মিথিলা। শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল কাজের প্রশংসা করে তিনি তরুণ ডিজাইনারদের আগামীর ফ্যাশন বিশ্বে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠান চলাকালীন বিভাগীয় প্রধানের পক্ষ থেকে তাঁকে বিশেষ সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা। এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সরকার হিরেন্দ্র চন্দ্র, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধানগণ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীবৃন্দ। পুরো আয়োজনের সভাপতিত্ব করেন ফ্যাশন অ্যান্ড ডিজাইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক তানজিল হাসনাইন মঈন রনিত।
অনুষ্ঠানে এই আয়োজনের সহযোগী স্পন্সর প্রতিষ্ঠান “বাটা”-এর প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধির হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি, ফ্যাশন শো সফল করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া পূর্ববর্তী সকল স্পন্সরদেরও সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়। স্পন্সর প্রতিষ্ঠান বাটা বাংলাদেশের প্রতিনিধি তানজিদা ইসলাম (CRM & Loyalty Program Manager) তার অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, আত্মবিশ্বাস এবং পেশাদারিত্ব আমাদের মুগ্ধ করেছে। এমন উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে আমরা গর্বিত এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমে পাশে থাকতে আগ্রহী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মনীন্দ্র কুমার রায় বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই সৃজনশীলতা আমাদের মুগ্ধ করেছে। আর. পি. সাহা বিশ্ববিদ্যালয় সবসময়ই কর্মমুখী ও আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রদানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার প্রতিফলন আজকের এই ফ্যাশন ফিয়েস্তা ২০২৬।” কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের প্রতিনিধিরাও শিক্ষার্থীদের পেশাদারিত্বের উচ্চ প্রশংসা করেন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিভাগীয় প্রধান তানজিল হাসনাইন মঈন রনিত তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শুধু তাত্ত্বিক শিক্ষা নয়, বরং শিল্পের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া। এই ‘ফ্যাশন ফিয়েস্তা’ তাদের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। আমরা বিশ্বাস করি, এখান থেকেই আগামীর দক্ষ ফ্যাশন ডিজাইনাররা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।” তিনি আয়োজনে সহযোগিতার জন্য স্পন্সর বাটা, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ট্রাস্টকে বিশেষ ধন্যবাদ জানান।
শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণের মাধ্যমে শেষ হয় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। পুরুষ্কার প্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা ড্রইং মিডিয়া পেন্সিল যৌথভাবে মারিয়া ইয়াসমিন মিম ও ফাইমা আক্তার। ড্রইং মিডিয়া পেন যৌথভাবে জোয়াইরিয়া ফাদিলা ও তাহমিনা আক্তার ইকরা। ইলাস্ট্রেশন মিডিয়া ম্যানুয়াল জোয়াইরিয়া ফাদিলা। ড্রইং মিডিয়া কালার যৌথভাবে নাইমা আহমেদ নিধি ও তাজরিন জামান মোহিনী। ইলাস্ট্রেশন মিডিয়া– ডিজিটাল: জোয়াইরিয়া ফাদিলা। ড্রেপিং এ পেয়েছে কামরুন নাহার দিনা। ফটোগ্রাফিতে পেয়েছে জোয়াইরিয়া ফাদিলা। ফ্যাশন শো এর সেরা পোশাক ডিজাইনার তাসলিমা আক্তার দিনা। একাডেমিক এক্সেলেন্স ২০২৬ পেয়েছে মায়শা জামান এবং সেরা সৃজনশীল অবদান এ পুরষ্কার পেয়েছে ফাইমা আক্তার।
দিনব্যাপী এই উৎসবটি আর. পি. সাহা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং দেশের ফ্যাশন ও বিনোদন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এক উৎসবমুখর মিলনমেলায় পরিণত হয়।
পড়ুন : তীব্র তাপপ্রবাহে শরীরে পানিশূন্যতা? ৫ লক্ষণে বুঝুন ঘরে বসেই


