হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়া এবং চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রকে একটি নতুন প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রশাসনের এক কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুইটি সূত্রের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে অ্যাক্সিওস। তবে এতে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পিছিয়ে দেয়ার কথা বলা হয়েছে।
পারমাণবিক ইস্যুতে কতটুকু ছাড় দেয়া হবে তা নিয়ে ইরানের নেতৃত্বের ভেতরে মতভেদ রয়েছে। ইরানের নতুন প্রস্তাবটি দ্রুত সমঝোতায় পৌঁছানোর লক্ষ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।
তিনজন মার্কিন কর্মকর্তার মতে, সোমবার (২৭ এপ্রিল) ইরান ইস্যুতে তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক টিমকে নিয়ে সিচুয়েশন রুমে বৈঠক করবেন ট্রাম্প। একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে ইরান ইস্যুতে চলমান অচলাবস্থা এবং পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হবে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে চান তিনি। এর মাধ্যমে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তেহরান চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে বলে ধারণা তার।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনার সিস্টেমের মধ্য দিয়ে যখন বিপুল পরিমাণ তেল প্রবাহিত হয়…আপনি তা কনটেইনার বা জাহাজে তুলতে না পারার কারণে সেই লাইন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তখন ভেতর থেকেই সেই লাইন বিস্ফোরিত হয়। এমনটা ঘটতে মাত্র তিন দিন লাগবে।’
চলতি সপ্তাহে পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। তবে ইরান ইতিবাচক সাড়া না দেয়ায় শেষ পর্যন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়নি। ট্রাম্প আলোচনার জন্য পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠাতে প্রস্তুত থাকলেও পরে সে পরিকল্পনা বাদ দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ১৮ ঘণ্টার ফ্লাইটে পাঠানোর কোনো মানে দেখি না। সময়টা অনেক বেশি। ফোনেই একই কাজ করা যায়। ইরান চাইলে আমাদের ফোন করতে পারে। শুধু বসে থাকার জন্য আমরা সেখানে যাব না।’
ইরানের প্রস্তাব সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, ইসলামাবাদের বৈঠকগুলোতে পারমাণবিক ইস্যু পাশ কাটিয়ে এগোনোর পরিকল্পনা উত্থাপন করেন আরাগচি।
একটি সূত্রের দাবি, পাকিস্তান, মিশর, তুরস্ক ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো নিয়ে ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে ঐকমত্য নেই বলে জানিয়েছেন আরাগচি। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে, ইরান অন্তত এক দশকের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করুক এবং দেশের বাইরে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নিক।
পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে দেয়া নতুন প্রস্তাবে প্রথমে হরমুজ প্রণালি সংকট এবং মার্কিন অবরোধের সমাধানে জোর দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও বাড়ানো হতে পারে, অথবা পক্ষগুলো স্থায়ীভাবে যুদ্ধের অবসানে সম্মত হতে পারে। প্রস্তাব অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়া এবং অবরোধ তুলে নেয়ার পরই কেবল পরবর্তী ধাপে পারমাণবিক আলোচনা শুরু হবে।
হোয়াইট হাউস প্রস্তাবটি পেয়েছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এটি নিয়ে এগোতে আগ্রহী কি না তা এখনও স্পষ্ট নয়।
হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস অ্যাক্সিওসকে বলেন, ‘এগুলো সংবেদনশীল কূটনৈতিক আলোচনা এবং যুক্তরাষ্ট্র সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে আলোচনা করবে না। প্রেসিডেন্ট যেমন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতেই সব তাস রয়েছে এবং এমন চুক্তিই হবে যা আমেরিকান জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবে—ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র পেতে দেয়া হবে না।’
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পড়ুন : ইরান যদি আলোচনা করতে চায়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে: ট্রাম্প


