বিজ্ঞাপন

কমিশনিং লাইসেন্স পেল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, উৎপাদনে যেতে বাধা নেই

কমিশনিং লাইসেন্স পেয়েছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট। এর ফলে দেশের প্রথম ও বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রটি উৎপাদনের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবীর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ৭ এপ্রিল থেকে দেশের প্রথম ও বৃহত্তম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে ফুয়েল লোডিংয়ের কথা জানিয়েছিলেন। গত ১৪ মার্চ গণমাধ্যমকর্মীদের তিনি জানান, ৭ এপ্রিল থেকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোড শুরু হবে। এটি হবে দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

জুন থেকে জুলাই মাসের মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে বলে আশার কথা জানিয়ে ওইদিন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, প্রকল্পের একটি ইউনিট ডিসেম্বরের মধ্যে পূর্ণ ক্ষমতায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে।

তবে নিবন্ধন না পাওয়ায় গত ৭ এপ্রিল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ফুয়েল লোডিং করা যায়নি। ওইদিন দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক এ তথ্য জানিয়েছিলেন। অবশেষে কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ায় এখন বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উৎপাদনের প্রক্রিয়া যেতে আর কোনো বাধা থাকল না।

বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প উৎস হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

উল্লেখ্য, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির ভিত্তিতে নির্মিত এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ১২.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা)। ২০১৩ সালে চুক্তি স্বাক্ষর এবং ২০১৫ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।

প্রথম ইউনিটের নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর লক্ষ্য রয়েছে। দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ চলমান, যা আগামী বছরের শেষ নাগাদ শেষ হতে পারে। পুরো প্রকল্প ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।

সবকিছু ঠিক থাকলে, প্রথম ইউনিট থেকে ১২০০ মেগাওয়াট এবং পরবর্তীতে দ্বিতীয় ইউনিট থেকে আরও ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে।

পড়ুন : পলকের নির্দেশেই ২৪-এর জুলাইয়ে বন্ধ করা হয় ইন্টারনেট

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন