কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর বাজারে অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ ও বেশি দামে বিক্রির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক ব্যবসায়ীকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে জরিমানার অর্থের একটি অংশ মসজিদে দেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য সামনে আসায় এলাকাজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (দুপুর ১টা) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন খন্দকারের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে বাজারের ‘ভাই ভাই ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার লিটার অকটেন অবৈধভাবে মজুদ এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ মেলে। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক আলী আহম্মেদকে তাৎক্ষণিকভাবে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়, যা তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পরিশোধ করেন।
অভিযান-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদায়কৃত জরিমানার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা সরকারি চালানের (ডিসিআর) মাধ্যমে জমা নেওয়া হয়। অপরদিকে, বাকি ৫০ হাজার টাকা স্থানীয় গাইলকাটা জামে মসজিদ ও একটি মাদ্রাসায় দানের জন্য উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শাহ আলমের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারী রতন মিয়া দাবি করেন, পুরো ১ লাখ টাকা জরিমানা নেওয়া হলেও কাগজপত্রে ৫০ হাজার টাকার রসিদ দেওয়া হয়েছে। একই ধরনের তথ্য নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের এক কর্মকর্তাও নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, ইউএনও ইয়াসিন খন্দকারের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করে পরে জানাবেন বলে ফোন কেটে দেন।
এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জরিমানার অর্থ আদায় ও ব্যবহারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সচেতন মহলে। বিশেষ করে সরকারি জরিমানার অর্থ ব্যক্তিগতভাবে দান করার বিষয়টি আইনসঙ্গত কি না—তা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।


