কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে ‘পীরের’ আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ এবং ‘পীরকে’ পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এঘটনায় রোববার সকাল ১১ টার দিকে ঘটনা স্থল পরিদর্শন করে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডি আইজি শেখ জয়নুদ্দীন।
গত শনিবার দুপুরে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের দারোগার মোড় এলাকায় ‘শামীম বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থাপনাটিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও র্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সংসদ সদস্যও ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন।
ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডি আইজি শেখ জয়নুদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ম অবমাননার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমাদের দেশে আইন রয়েছে, সেই আইন অনুযায়ীই এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া উচিত। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে সহিংসতা ঘটেছে, তা মোটেই কাম্য ছিল না। আমরা চাই, ভবিষ্যতে এখানে আর কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে। বর্তমানে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করছেন।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেওয়া হলেও, প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ঘটনার আগে প্রশাসনের কাছে গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে দেরি হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তথ্য পাওয়ার পরই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে পুলিশের ব্যর্থতার দায় নিতে তিনি রাজি নন। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি, তবে পুলিশ বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।
এদিকে দুপুর ১ টার দিকে নিহতের ময়তদন্ত শেষ হয়। এসময় ময়নাতদন্ত কারী কর্মকর্তা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে আবাসিক চিকিৎসক আরএমও হোসেন ইমাম বলেন, নিহতের শরিরে বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিন্হ রয়েছে এর মধ্যে মাথায় একটি গভীর খতো দেখা যায় যেখানে অতিরিক্ত রক্ত খরনের কারণে তার মৃত্যু হয়।
পড়ুন- হত্যাচেষ্টা মামলায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিন
দেখুন- জামালপুরে গাছে উঠে অজ্ঞান শ্রমিক, উদ্ধার করল ফায়ার সার্ভিস


