মাদকের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে এবং সমাজ থেকে মাদক নির্মূলের লক্ষ্যে নেত্রকোনায় কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন। একের পর এক চলছে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান। এরই ধারাবাহিকতায় নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে মাদক সেবনকারী ও কারবারিদের নিজ বাড়িতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে সাজা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। জনসমক্ষে ঘটনাস্থলেই বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের নূরপুর বোয়ালী গ্রামে এ অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।
উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এলাকায় মাদকের বিস্তার রোধে থানা পুলিশ, নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসন যৌথভাবে কাজ করছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেলে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একজন উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং দুজন পুলিশ কনস্টেবলের একটি দল নূরপুর বোয়ালী গ্রামে অভিযান চালায়।
অভিযানে এলাকার চিহ্নিত তিনজন মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন- নূরপুর বোয়ালী গ্রামের মো. রহিজ মিয়ার ছেলে স্বপন মিয়া (৪২), আল্লাদ খাঁর ছেলে শহিদুল খাঁ (৩৬) এবং মৃত রাশিদ চৌধুরীর ছেলে শেখ স্বাধীন চৌধুরী (২৫)। তারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদকের কারবারের সাথে জড়িত এবং পুলিশের তালিকাভুক্ত অপরাধী বলে জানা গেছে।
আটকের পর তাদের কাছ থেকে গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম এবং দেশীয় চোলাই মদ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
খবর পেয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাদির হোসেন শামীম তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন এবং স্থানীয় জনতার উপস্থিতিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। আদালতে আটককৃতরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।
এর মধ্যে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় স্বপন মিয়া ও শহিদুল খাঁকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং শেখ স্বাধীন চৌধুরীকে তনি মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাদির হোসেন শামীম জানান, “মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান জিরো টলারেন্স। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নূরপুর বোয়ালী গ্রাম থেকে তিনজন তালিকাভুক্ত মাদক কারবারি ও সেবনকারীকে আটক করা হয়। পরে নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দোষীদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে দুজনকে ১৫ দিন এবং একজনকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছি।”
তিনি আরও জানান, আটককৃতদের কাছ থেকে জব্দ করা গাঁজা খাওয়ার সরঞ্জাম ও চোলাই মদ ঘটনাস্থলেই জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে। সমাজ থেকে মাদক পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা মনে করেন, ঘটনাস্থলে এমন তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা এলাকার যুবসমাজকে মাদকের ভয়াল থাবা থেকে রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
পড়ুন : গাজীপুরে নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া দুই ছাত্রীর লাশ উদ্ধার


