জ্বালানি তেল সংগ্রহকে কেন্দ্র করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে সৃষ্টি হয় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি। লাইনে দাড়ানোকে ঘিরে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
ঘটনাস্থলেই হস্তক্ষেপ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তিন যুবকের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এতপ দুজনকে কারাদণ্ড এবং একজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে সদর উপজেলার ডিঙ্গেদহ হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তেল নিতে আসা কয়েকজন যুবক নিয়ম ভঙ্গ করে লাইনে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এ নিয়ে অন্যান্য গ্রাহকদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা দ্রুত হাতাহাতিতে গড়ায়। এতে পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়েন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী। পরে ফিলিং স্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের সনাক্ত করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের রায়ে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মানিকদি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে আশরাফুল ইসলাম এবং আব্বাস উদ্দীনের ছেলে মারুফ বিল্লাহকে দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ১৮৮ ধারায় পাচ দিনের করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একই ঘটনায় পৌর এলাকার সাতগাড়ি গ্রামের নাঈমকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।
অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহাদ চৌধুরী জানান, জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে প্রতিদিন ২২টি পাম্পে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা আইন ভঙ্গের ঘটনা সহ্য করা হবে না। জনসাধারণের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বি. এম. তারিক-উজ-জামান, সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল নাঈমসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট ও অতিরিক্ত ভিড়ের সুযোগে কিছু ব্যক্তি পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। তবে প্রশাসনের তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
পড়ুন- সংকট আর স্বস্তির দোলাচলে পার হলো ফ্যামিলি কার্ডের প্রথম মাস


