বিজ্ঞাপন

জরুরি সেবার লাইনে দাড়িয়েও রেহাই পেলেন না পুলিশ

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় দায়িত্ব পালনরত এক পুলিশ সদস্যকে জ্বালানি তেল সংগ্রহের সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জরিমানা করার ঘটনা ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা ও অস্বস্তির। জরুরি সেবার আওতায় থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের পদক্ষেপ কতটা যৌক্তিক তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে জেলা পুলিশ নিজেই।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) জামাল আল নাসের স্বাক্ষরিত ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্য জরুরি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনে বিকল্প লাইনে তেল সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন এ সময় পোশাক পরিহিত অবস্থায় তাকে জরিমানা করা হয়।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে আলমডাঙ্গা থানায় কর্মরত ওই পুলিশ সদস্য ইউনিফর্ম ও হেলমেট পরিহিত অবস্থায় মোটরসাইকেলে জ্বালানি তেল নিতে একটি ফিলিং স্টেশনে যান। সে সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৫০০ টাকা জরিমানা করেন।

জেলা পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, সিভিল প্রশাসন ও সাংবাদিকসহ জরুরি সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা ফিলিং স্টেশনগুলোতে বিকল্প লাইনে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারবেন। সেই সিদ্ধান্ত মেনেই এতদিন কার্যক্রম চলছিল।

কিন্তু সাম্প্রতিক এই ঘটনায় সেই সিদ্ধান্ত কার্যত উপেক্ষিত হয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয় পুলিশ প্রশাসন। তাদের মতে, দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় একজন সদস্যকে এভাবে জরিমানার মুখে পড়তে হলে তা বাহিনীর মনোবলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং জরুরি সেবার কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে তেলের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করা এবং অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করেই কাজ করে আসছে পুলিশ। তবে মাঠপর্যায়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি সামগ্রিক সমন্বয় ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।

পুরো বিষয়টি স্পর্শকাতর উল্লেখ করে জেলা পুলিশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রেখে জরুরি সেবার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বাবুল নামে এক সাজাপ্রাপ্ত কয়েদির মৃত্যু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন