বিজ্ঞাপন

৯-৫টা ডিউটি করেও কি সুস্থ জীবনযাপন সম্ভব? যা বললেন পুষ্টিবিদ

আধুনিক প্রযুক্তির এই যুগে দিন-রাতের অধিকাংশ সময়ই ব্যস্ততায় কাটে। ফলে ঠিকমত শরীরের যত্ন নেয়া হয়। এমনকি খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্য ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে খেয়াল রাখতেও এলেমেলো হয়ে যায় কখনো কখনো। এরপরও কর্মব্যস্ত জীবনে ডায়েট মেইনটেইন করতে চান অনেকেই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বিপত্তি হয়ে দাঁড়ায় ঘুম থেকে ওঠে সকাল ৯টা থেকে শুরু করে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অফিস ডিউটি।

বিজ্ঞাপন

অনেকেই বলে থাকেন, ব্যস্ততার জন্য সঠিক জীবনযাপন করা সম্ভব হয় না। কিন্তু এটি কি আদৌ তাই? এখন প্রশ্ন হচ্ছে―সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা বা এরও বেশি সময় পর্যন্ত অফিসে বা বাইরে কাজ করে সুস্থ জীবনযাপন পরিচালনা করা সম্ভব কিনা। লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং মেডিগো হেলদকেয়ারের পুষ্টিবিদ তিয়াশা হায়াৎ চ্যানেল 24 অনলাইনকে বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ডেস্কে বসে কাজ, মাঝে চা-বিস্কুট, লাঞ্চে তাড়াহুড়ো করে খাওয়া; এটাই এখন আমাদের অনেকেরই ডেইলি রুটিন। দিন শেষে ক্লান্তি, ওজন বাড়া, গ্যাস্ট্রিক বা  মাথাব্যথা যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে গেছে। এ জন্যই অনেকে ভাবেন, এই লাইফস্টাইলে সুস্থ থাকা আদৌ সম্ভব কিনা।

পুষ্টিবিদ তিয়াশা হায়াৎ বলেন, প্রকৃত অর্থে সম্ভব; তবে একটু সচেতন হতে হবে। বড় কোনো পরিবর্তন নয়, বরং দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসই আপনার স্বাস্থ্যকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম ও করণীয় সঠিকভাবে মেনে চলতে হবে।

➤ ব্রেকফাস্ট স্কিপ না করা: সকালে তাড়াহুড়ায় জব হোল্ডারদের অধিকাংশের বেশি গাফলতি হয় ব্রেকফাস্ট নিয়ে। না খেয়েই বাসা থেকে বের হয়ে যায়, যা একদমই উচিত না। এ সময় হালকা কিন্তু হেলদি খাবার সিলেক্ট করা উচিত। যেমন- ডিম, রুটি বা ওটস, কলা বা দই, চিড়া, দুধ, কর্ণফ্ল্যাক্স ইত্যাদি।

➤ অফিসে স্মার্ট স্ন্যাকস: অফিসে অনেক লম্বা সময় কাটানোর ফলে অনেকের বিস্কুট, চানাচুর, কেক খাওয়া হয়। এগুলোর পরিবর্তে বেছে কোনো মৌসুমী ফল, সামান্য বাদাম, খেজুর, ডার্ক চকলেট ইত্যাদি বেছে নিতে পারেন।

➤ পর্যাপ্ত পানি পান: ডেস্কে একটা পানির বোতল রাখুন। প্রতিদিন ২-৩ লিটার পানি পান করুন। অত্যাধিক গরমে মাঝে মাঝে স্যালাইন রাখতে পারেন।

➤ লাঞ্চে ব্যালেন্সড প্লেট: ভাত বাদ দিয়েই ডায়েট করতে হবে, এটা আসলে একটা মিথ। বরং প্লেটের অর্ধেক অংশে শাক-সবজি, সালাদ রাখুন। বাকি অংশের অর্ধেক ভাত, এবং অর্ধেক মাছ বা মাংস বা ডাল, এভাবে সাজালেও লাঞ্চ হবে পরিপূর্ণ পুষ্টিক

এ ছাড়া আরও কিছু লাইফস্টাইল মেনে চলতে হবে। যেমন—
 অন্তত প্রতি ১ ঘণ্টা পরপর ডেস্ক থেকে উঠে ৫-১০ মিনিট হাঁটাহাঁটি অথবা স্ট্রেচিং করুন।

➨ দিনে ১-২ কাপের বেশি চা-কফি পান করা যাবে না এবং চা-কফিতে চিনি খাওয়ার প্রবণতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনুন।

➨ অফিস শেষ করে বাইরের ভাজাপোড়া না খেয়ে হেলদি অপশনগুলো বেছে নিন। যেমন- স্যুপ, সালাদ, পপকর্ণ, চিতই পিঠা, সেদ্ধ ডিম, দই।

➨ রাতের খাবার হালকা রাখুন এবং ঘুমানোর অন্তত ১ ঘণ্টা আগে খেয়ে নিন।

 ঘুমানোর ১ ঘণ্টা আগে থেকে ডিভাইস ব্যবহার বন্ধ রাখুন এবং ঘুম থেকে উঠার অন্তত আধ-ঘণ্টা পর হাতে নিন।

➨ অফিসে যাওয়ার রাস্তায় ১০ মিনিট হলেও হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করুন।

সবশেষ পুষ্টিবিদ তিয়াশা হায়াৎ বলেন, মনে রাখবেন, নিজের শরীরের প্রতি যত্ন নেয়া কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি প্রয়োজন। এ জন্য ব্যস্ততার মাঝেও নিজেকে অগ্রাধিকার দিন। কারণ সুস্থ থাকলেই আপনি আপনার কাজ ও জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত আরও ভালোভাবে উপভোগ করতে পারবেন।

পড়ুন:জিয়াউর রহমানের ত্রিপক্ষীয় শ্রমনীতি শ্রম কল্যাণের ভিত্তি মজবুত করেছে: রাষ্ট্রপতি

দেখুন:‘ঋণ খেলাপি’ নিয়ে সংসদে যা বললেন অর্থমন্ত্রী

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন