দিনাজপুরে পীর সাহেবের সম্পত্তি বেদখল করার পায়তারা করছে বিএনপি’র নাম ভাঙ্গিয়ে এমন অভিযোগ এনে ওয়ারিশ ও গ্রামবাসী সংবাদ সম্মেলন করেছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১ টার দিকে দিনাজপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন চিরিরবন্দর উপজেলার পশ্চিম সাইতারা গ্রামের দৈতরখাঁ পীর সাহেবের ওয়ারিশ ও উক্ত গ্রামের বাসিন্দা মো.আব্দুল জলিল এর ছেলে মো.হাফিজুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে পশ্চিম সাইতাড়া গ্রামের দৈতরখী পীর সাহেবের ওয়ারিশ আমি। তফসিল অনুযায়ী সি.এস-৩৭২ ও এস.এ-৩৫৬ খতিয়ানের রেকর্ডীয় মালিক দৈতরখা পীর সাহেবের রেকর্ডীয় জিম্মা দখলকার আমার পিতা মো.খোকা ফকির গং। আমার পিতার মৃত্যুর পর উক্ত রেকর্ডীয় সম্পত্তি আমরা ২ ভাই ও তিন বোনসহ অন্যান্য ওয়ারিশগণ মিলে রক্ষনাবেক্ষন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে নির্বিঘ্নে ভোগ দখল করে আসছি। কিন্তু উক্ত সম্পত্তি ভোগদখলীয় থাকা অবস্থায় পাশ্ববর্তী ঘুঘরাতলী গ্রামের আব্দুল গফুর শাহ এর ছেলে হরমুজ আলী, ডাঃ রজব আলীর ছেলে সফিকুল ইসলাম,মৃত আব্দুল বাকি মন্ডলের ছেলে মোকারম হোসেন মুকুল ও আলতাফ হোসেন,জিয়ারুল, সাইফুল,মনছুর আলীসহ অন্যান্যরা নিজেদের বিএনপি দাবী করে গ্রামবাসীকেও হুমকি ধামকি দিয়ে আসছে। এমনকি সম্পত্তিটি ওয়াকফ দেখিয়ে রেকর্ডীয় মালিকের ওয়ারিশনগন তথা আমাদের বরাবরই ভয়-ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন। সেইসাথে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য তারা পীর সাহেবের সম্পত্তি বেদখল করার জন্য পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বক্তব্যে অভিযোগ এনে হাফিজুল ইসলাম আরও বলেন, প্রাণনাশের হুমকি পেয়ে আমরা পীর সাহেবের জিম্মাদার ও গ্রামবাসী প্রতিনিয়তই হুমকির মধ্যে পড়ে আছি। আর তাই সম্পত্তি বেদখল করার পাঁয়তারা করায় হরমুজ আলী গং সহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে দিনাজপুর জেলা যুগ্ম জজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করি। মামলা নং ৬১/২০০২। যা এখনো বিচারাধীন আছে। এছাড়াও ওয়াকফ অফিসকে ১৫নং বিবাদী করে একটি মামলা চলছে বলে জানান তিনি।
তিনি বক্তব্যে আরও বলেন,উক্ত নামধারী ব্যক্তিরা আমাদের ভোগ দখলিয় সম্পত্তি হতে উচ্ছেদ করার জন্য বিভিন্ন প্রকার যড়যন্ত্র করে আসছে। এই ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে হরমুজ আলী ও সফিকুল ইসলাম গং দৈতরখাঁ পীর সাহেবের নামীয় সম্পত্তি তঞ্চকতা মুলে হাসিল করার উদ্দেশ্যে ওয়াকফ এস্টেট এর মোতয়াল্লী সেজে গেদ ২০০৯ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি দৈতরখা পীর সাহেবের ওয়ারিশগনের বিরুদ্ধে ফৌঃ কাঃ বিঃ আইনের ১৪৪ ধারা মোতাবেক মামলা করেন। যা উচ্চ আদালতের মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থিতি বজায় রাখার জন্য আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। পরবর্তীতে তারা ২০০৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি আবারো আমাদের সহ অন্যান্য ১৭ জনের বিরুদ্ধে চিরিরবন্দর থানায় একটি মামলা করেন। কিন্তু উক্ত মামলা হতে আমাদের বিজ্ঞ আদালত নির্দোষী খালাস দেন। তবে উক্ত মামলায় আমাদেরকে সায়েস্তা করতে না পেরে মোকারম হোসেন (মুকুল), শফিকুল, কিনামদ্দিনদের যোগসাযোসক্রমে জি.আর ৩৫/০৯, জি, আর ৪০/০৯, জি.আর ৬৪/০৯ নং মিথ্যা মামলা দেন আমাদের বিরুদ্ধে। এভাবে প্রতিটি মামলায় বিজ্ঞ আদালত আমাদের নির্দোষ খালাস দেন। কিন্তু তারা আবারো নতুনভাবে যোগসাজশ করছে বলে অভিযোগ করেছেন।
হাফিজুল ইসলাম বলেন,ইতিপূর্বে আমাদের দৈতরখাঁ পুকুরের পাহারাদার নজরুল ইসলামকে হরমুজ আলী ও শফিকুল সহ অন্য ৭ জন শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করার অপরাধে মৃত নজরুল ইসলাম এর ছেলে হাফিজুর রহমান বাদী হয়ে গেল ২০০৯ সালের ২৯ মার্চ একটি হত্যা মামলা করেন। যার জি.আর নং-৩৮/০৯ দঃ বিঃ ৩০২/৩৪।
এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সু-বিচারের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী দৈতরখাঁ পীর সাহেবের ওয়ারিশ ও গ্রামবাসী।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তফিজ উদ্দিন ফকির,আব্দুর রহমান,আব্দুল গনি, হরেন্দ্র নাথ রায়,মফিজ উদ্দিন ফকির, আব্দুল গনি,হাফেজা বেগম,তরু বালা,ববিতা রায়সহ সহস্রাধিক গ্রামবাসী।


