বিজ্ঞাপন

দুর্নীতি ও নির্যাতন থেকে মুক্তি চাইলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবেন: দেলাওয়ার হোসেন

৫ আগস্টের আগে দেশে যেভাবে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, দুর্নীতি ও জুলুম চলছিল, ঠিক একইভাবে ৫ আগস্টের পরেও সেই কর্মকাণ্ড অব্যাহত আছে—শুধু ক্ষমতার হাত বদল হয়েছে, কাজের কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ১১ দলীয় এমপি প্রার্থী ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মো. দেলাওয়ার হোসেন।

দেলাওয়ার হোসেন বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর যারা চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, জুলুমবাজি করেছে, দোকানপাট, বাড়িঘর ও খাল লুটপাট করেছে, হিন্দু ভাইদের ঘরে আগুন দিয়েছে এবং মিথ্যা মামলা দিয়ে মানুষকে হয়রানি করছে—আপনারা কি আবারও তাদের ভোট দেবেন, নাকি প্রত্যাখ্যান করবেন, সেই সিদ্ধান্ত আপনাদেরই নিতে হবে।”

তিনি বলেন, “যদি চাঁদাবাজি ও নির্যাতন অব্যাহত রাখতে চান তাহলে তাদের ভোট দিন, আর যদি এসব থেকে মুক্তি চান ও সমাজ থেকে দুর্নীতিবাজদের নির্মূল করতে চান, তাহলে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিবেন।”

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার রাজাগাঁও ইউনিয়নের পাটিয়াডাঙ্গী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে বিভিন্ন স্থানে বাধার মুখে পড়ছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপির কিছু কর্মী নির্দিষ্ট এলাকায় জামায়াতের নেতাকর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন।

দেলাওয়ার হোসেন আরও বলেন, “সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেক রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর জনগণের কাছে ভোট চাওয়ার অধিকার রয়েছে। এই অধিকারে বাধা দেওয়া হলে আমরা আইনসম্মতভাবে প্রতিবাদ জানাব।”

তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশের পক্ষে। তবে শান্তিপূর্ণ আচরণকে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেন তিনি।

এক পর্যায়ে তিনি বলেন, “নির্বাচিত হওয়ার আগেই যদি হুমকি বা বাধা আসে, তা আমরা মেনে নেব না। জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রশিবির যখন জেগে উঠবে, তখন পালানোর দিশা খুঁজে পাবেন না।”

সমান সুযোগ ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, জামায়াত ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কোনো কর্মী কখনো প্রতিপক্ষকে ভোট চাইতে বাধা দেয়নি এবং ভবিষ্যতেও দেবে না।

ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড গণতান্ত্রিক পরিবেশের পরিপন্থী। আগামী ১২ তারিখে ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের রায় জানাবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এসময় দেলাওয়ার হোসেন দাবি করেন, বিভিন্ন জরিপে জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় আসার ইঙ্গিত মিলছে। তিনি বলেন, “যাদের বয়স ৭০ বছর পেরিয়েছে, তাদের উচিত ছিল অবসর নিয়ে তরুণদের সুযোগ করে দেওয়া। এই বয়সে দেশ ও জাতিকে দেওয়ার মতো তেমন কিছু আর থাকে না।”

তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সার্বিক উন্নয়ন, অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন।

জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবির ঠাকুরগাঁও শহর শাখার সভাপতি মাহমুদুল হাসানসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতে আমীরের আগমন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন