ঢাকার ধামরাইয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী কে ধর্ষণ ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি ধরতে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো নাজমুল হুদা খান। এর আগে বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে ধামরাই পৌরসভার পাঠানটোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী ছাত্রী ধামরাই পৌরসভার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, ছাত্রলীগের সক্রিয় কর্মী সৈয়দ ইউসুফ আলী প্রান্ত প্রতারণার মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলে এবং তাকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ এবং অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ অভিযানে নামে। বুধবার প্রান্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তার বাড়িতে গেলে যুবদল নেতা সৈয়দ নাইম ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত প্রান্ত ও তার সহযোগীরা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এ সময় পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করা ও পুলিশ সদস্যদের লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। হামলার ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এমন খবর পেয়ে ধামরাই থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রান্ত ও নাইম ইসলামকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—পাঠানটোলা এলাকার সৈয়দ জাফর আলীর ছেলে সৈয়দ ইউসুফ আলী প্রান্ত এবং সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে সৈয়দ নাইম ইসলাম।
ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুল হুদা খান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় মামলা নেওয়া হয়। আসামি গ্রেপ্তারে গেলে তারা পুলিশের কাজে বাধা দেয় এবং হামলা চালায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করে।
তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগে একটি এবং পুলিশের কাজে বাধা ও হামলার অভিযোগে পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পড়ুন : জুলাই সনদ দেশবাসীর সম্পদ, বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর: ভোলায় স্পিকার


