বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় সরঞ্জামসহ ইয়াবা ডিলার গ্রেপ্তার: ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা

নেত্রকোনার খালিয়াজুরীতে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো. মাসুক মিয়া (৪৫) নামের মাদক কারবারিকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চাকুয়া ইউনিয়নের রানীচাপুর গ্রামে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

বিজ্ঞাপন

দণ্ডপ্রাপ্ত মো. মাসুক মিয়া রানীচাপুর গ্রামের মো. গিয়াস উদ্দিনের ছেলে। স্থানীয়দের কাছে তিনি এলাকার অন্যতম ‌‘ইয়াবা ডিলার’ হিসেবে পরিচিত। খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাদির হোসেন শামীম ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, তালিকাভুক্ত মাদক ব্যবসায়ী মাসুক মিয়া নিজ বাড়িতে ইয়াবা বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে খালিয়াজুরী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মঞ্জুর রহমান এবং সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. রেজাউল করিম সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে মাসুকের বাড়ি ঘেরাও করে অবস্থান নেন।

পরিস্থিতি এবং স্থানটি মাদক উদ্ধারের ক্ষেত্রে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় পরবর্তীতে খালিয়াজুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাদির হোসেন শামীম এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন সরাসরি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তাদের নেতৃত্বে মাসুকের বসতঘরে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে বাড়ি থেকে ইয়াবা সেবন ও বিক্রির বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে পুলিশ। অভিযানের একপর্যায়ে আটক মাসুক মিয়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেন। তিনি ইয়াবা সেবন ও ব্যবসার সাথে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়ে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।

দোষ স্বীকার ও ঘটনাস্থল থেকে সরঞ্জাম উদ্ধারের পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাদির হোসেন শামীম তাৎক্ষণিকভাবে রায় ঘোষণা করেন। রায়ে মাদক ব্যবসায়ী মাসুক মিয়াকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং নগদ এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

এ বিষয়ে খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাসিরউদ্দিন বলেন, “মাসুক পুলিশের তালিকাভুক্ত পেশাদার একজন মাদক কারবারি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সদস্যরা প্রথমে তার বাড়িতে যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে সরঞ্জামাদিসহ তাকে আটক করা হয় এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাকে কারাদণ্ড ও জরিমানা প্রদান করেন। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাদির হোসেন শামীম অভিযানের বিষয়ে বলেন, “মাসুক মিয়া ইয়াবা সেবনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল, এমন সুনির্দিষ্ট তথ্য পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ওসি সাহেবকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। সেখানে মাদকের সরঞ্জামাদিসহ তাকে হাতেনাতে পাওয়া যায়। তার নিজের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও যোগ করেন, “স্থানীয় সংসদ সদস্য মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে উপজেলা প্রশাসনের এমন মাদকবিরোধী অভিযান চলমান থাকবে।”

পড়ুন- একদিনে হাম ও উপসর্গ নিয়ে ৩ জনের মৃত্যু

দেখুন- শিশুদের নিয়ে ভিন্নরকম বৈশাখ আয়োজন ঢাকা রিজেন্সির

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন