বিজ্ঞাপন

নেত্রকোনায় ২ নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত জেলা প্রশাসন

নেত্রকোনা জেলার হাওর অঞ্চলে আগাম বন্যার শঙ্কা ক্রমশ প্রবল আকার ধারণ করছে। টানা পানিবৃদ্ধির ফলে জেলার কলমাকান্দা পয়েন্টে উব্দাখালী নদী এবং জারিয়া পয়েন্টে কংশ নদীর পানি বিপৎসীমার অনেক ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এরই মধ্যে হাওর এলাকার নিম্নাঞ্চলের অনেক বোরো ফসল তলিয়ে গেছে এবং আরও ফসল তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কায় চরম উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

বিজ্ঞাপন

তবে বন্যাসহ যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করছে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন। হাওরের ফসল রক্ষায় চলমান কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেও কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বিভাগের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রেরিত সর্বশেষ তথ্যে জেলার নদ-নদীর উদ্বেগজনক পরিস্থিতি জানা গেছে।

পাউবোর তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত কলমাকান্দা স্টেশনে উব্দাখালী নদীর পানি বিপৎসীমার (৪.৯০ মিটার) ০.৭৭ মিটার (৭৭ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। আগের দিন বুধবার এই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ০.৬০ মিটার ওপরে ছিল, যা ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে, দুর্গাপুরের জারিয়া পয়েন্টে কংশ নদীর পানি পরিস্থিতিও বেশ উদ্বেগজনক। বুধবার বিকেলে এই নদীর পানি বিপৎসীমার (৬.৩৫ মিটার) ০.৯৩ মিটার ওপরে থাকলেও, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ঠিক ১ মিটার (১০০ সেন্টিমিটার) ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

হাওর এলাকার আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা খালিয়াজুরী পয়েন্টে ধনু নদীর পানিও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় ধনু নদীর পানি বিপৎসীমার (৪.১৫ মিটার) মাত্র ০.১৪ মিটার (১৪ সেন্টিমিটার) নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যেকোনো মুহূর্তে এটিও বিপৎসীমা অতিক্রম করার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া জেলার আটপাড়া পয়েন্টে মগড়া নদীর পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে এটি বিপৎসীমার ১.৪৫ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।

তবে কিছুটা স্বস্তির খবর রয়েছে পাহাড়ি নদী সোমেশ্বরীর ক্ষেত্রে। জেলার দুর্গাপুর ও বিজয়পুর পয়েন্টে সোমেশ্বরীর পানি বিপৎসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় বিজয়পুরে বিপৎসীমার ৫.৭৯ মিটার এবং দুর্গাপুরে ৪.১৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গতকাল বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার সকালের দিকে সোমেশ্বরীর পানি কিছুটা হ্রাস পেলেও দুপুরের পর থেকে তা সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

হাওরের দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতি ও আগাম বন্যার শঙ্কা নিয়ে নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জানান, বন্যা বা যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “আমাদের বন্যা বা অন্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য আগাম প্রস্তুতি হিসেবে মিটিং করা হচ্ছে এবং দ্রুত জেলা পর্যায়েও মিটিং আহ্বান করা হবে।”

নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় হাওরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে এবং স্থানীয় প্রশাসনও সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।

পড়ুন- গণভোটের রায় বাস্তবায়নে ঢাকায় মহাসমাবেশের ডাক দিলো ১১ দলীয় জোট

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন