ফরিদপুরে শারিরিক এক প্রতিবন্ধী চা দোকানীর বাড়ীতে পুলিশ পরিচয়ে তল্লাশীর নামে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেবার অভিযোগ উঠেছে।
শুধু ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত থাকেনি তারা। হাতকরা পড়িয়ে থানায় এনে এরপর ১ লাখ টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ারও অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ফরিদপুর শহরের মধ্য আলিপুরের কানাই মাতুব্বর মোড় এলাকায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী চা দোকানী স্বরাস্ট্রমন্ত্রী, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজিসহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
প্রাপ্ত অভিযোগ ও ভুক্তভোগীর সাথে কথা বলে জানা যায়, শহরের কানাই মাতুব্বর মোড় এলাকায় চা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন শারিরিক প্রতিবন্ধী পঞ্চাশ বছর বয়সী রবিউল ইসলাম। গত ৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় পুলিশ পরিচয়ে সাদা পোষাকে কয়েক ব্যক্তি রবিউলের বাড়ীতে গিয়ে দরজা খুলতে বলে। এসময় তিনি দরজা খুলে দিলে তিন ব্যক্তি ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাসী করে এবং বিভিন্ন আসবাবপত্র তছনছ করে। এসময় রবিউলকে মারধোর করার পর একটি স্থান থেকে তারা জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। পরে আগত ব্যক্তিরা ঘরে মাদক দ্রব্য পাওয়া গেছে মর্মে রবিউলকে হাতকরা পড়িয়ে মোটর সাইকেলে করে থানায় নিয়ে আসে। পরে রবিউলের স্বজনদের ফোন করে থানা থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে ১ লাখ টাকা দাবি করে। পরবর্তীতে ১ লাখ টাকা দেবার পর থানা থেকে রবিউলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ঘটনার রাতে মহল্লার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, সাদা পোষাকে তিন ব্যক্তি রবিউলের বাড়ীতে প্রবেশ করছে। পরে তারা একটি ব্যাগ নিয়ে রবিউলকে সাথে করে বাড়ী থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
হতদরিদ্র চা দোকানী প্রতিবন্ধী রবিউল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য জমি বিক্রি করে টাকা গুলো বাড়ীতে একটি প্লাস্টিকের কন্টিনারে রাখা ছিল। পুলিশ পরিচয়ে দুই ব্যক্তি ও পুলিশের সোর্স রনক আমার ঘর থেকে টাকা গুলো নিয়ে যায়। পরে তারা থানায় নিয়ে ১ লাখ টাকা দেবার পর আমাকে ছেড়ে দেয়। আমার ঘরে মাদক তারা মাদক পায়নি। অথচ থানায় নিয়ে মাদক পাবার কথা আমাকে বলে। হতদরিদ্র প্রতিবন্ধী রবিউল কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, তারা দুইজন পুলিশের লোক ও একজন সোর্স ছিল। তারা আমাকে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে থানায় নিয়ে রান্না ঘরের সামনে রাখে। এক সময় তারা আমকে ওসির রুমে নিয়ে যায়। ওসি আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এ ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। আমার কাছ থেকে অন্যায়ভাবে যে টাকা গুলো নিয়েছে তা ফেরতা চাই।
এ বিষয়ে চা দোকানী রবিউল ইসলাম ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন স্থানে লিখিত অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় যদি কোন পুলিশ সদস্য জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া যায় তাহলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
পড়ুন- টাঙ্গাইলে ইয়াবা-গাঁজাসহ ৬ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার, ৩ মাদক সেবীকে কারাদণ্ড


