চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রাম (আইআইইউসি)-এর প্রধান ফটকের সামনে ডালাস পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন এলাকায় শত বছরের পুরোনো একটি পুকুর ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসীর নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত এই ঐতিহ্যবাহী জলাধারটি হঠাৎ করেই ভরাটের উদ্যোগ নেওয়ায় এলাকায় চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ‘বাধ্য পুকুর’ নামে পরিচিত এই পুকুরটি বহু বছর ধরে আশপাশের বাসিন্দাদের পানির প্রয়োজন, গৃহস্থালি কাজ এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল। সম্প্রতি সেখানে ট্রাকভর্তি মাটি ফেলে ভরাট কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এতে পুকুরের আয়তন দ্রুত কমে যাচ্ছে এবং পুরো পুকুরটি বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, এর আগেও পুকুরটির দক্ষিণ পাড় আংশিক ভরাট করে সেখানে একটি লোহার ডিপো স্থাপন করা হয়েছে। ধীরে ধীরে পুরো পুকুরটি দখল ও ভরাটের একটি পরিকল্পিত প্রক্রিয়া চলছে বলে তাদের ধারণা। তারা আশঙ্কা করছেন, পুকুরটি সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেলে এলাকার ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাবে, জলাবদ্ধতা বাড়বে এবং জীববৈচিত্র্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এ বিষয়ে কথা বলতে পুকুর ভরাটের সাথে জড়িত রিজভীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সরাসরি কোনো স্পষ্ট বক্তব্য না দিয়ে স্থানীয় এক সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বিএনপির ১ থেকে ২৬ সিরিয়ালের নেতাদের ‘ম্যানেজ’ করেই এই ভরাট কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ সময় তিনি প্রতিবেদককে পাল্টা প্রশ্ন করেন, তার সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে-শুনেই যোগাযোগ করা হয়েছে কিনা।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে সীতাকুণ্ড উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এ বিষয়ে তিনি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অবগত নন। তবে অভিযোগ সত্য হলে এবং কোনো ধরনের আইন লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে পুকুরটি রক্ষা ও ভরাট কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শত বছরের পুরোনো এই জলাধারটি শুধু একটি পুকুর নয়, বরং এলাকার পরিবেশ ও ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ—যা রক্ষা করা জরুরি।


