টানা দেড় দশক ক্ষমতায় থাকার পর অবশেষে পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতাচ্যুত হলো। ২০১১ সালে বামফ্রন্টকে পরাজিত করে ক্ষমতায় আসা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ২০২৬ সালে নিজেরই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বগত ব্যর্থতার কারণে হারের মুখে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলের ‘নবীন-প্রবীণ’ নেতাদের মধ্যে বিরোধ এবং দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত নেতাদের অবহেলা তৃণমূলের পতনের মূল কারণ। বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ‘নতুন তৃণমূল’ কাঠামো প্রবীণ নেতাদের অবমূল্যায়ন করে এবং দলের ভেতরের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করেছে।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল প্রতিষ্ঠার সময় মুকুল রায়, সুব্রত বক্সী, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম এবং শুভেন্দু অধিকারী ছিলেন মমতার মূল শক্তি। কিন্তু অভিষেকের উত্থানের সঙ্গে ‘কর্পোরেট’ সংস্কৃতির সংযোগ ও আই-প্যাকের মতো পরামর্শদাতা সংস্থার প্রভাব বেড়ে গেলে প্রবীণ নেতারা কোণঠাসা হয়ে পড়েন। ফলে দল থেকে অনেকেই বেরিয়ে যান বা নিষ্ক্রিয় হয়ে যান।
২০১৭ সালে মুকুল রায় ও ২০২০ সালে শুভেন্দু অধিকারীর তৃণমূল ত্যাগ দলের সাংগঠনিক ভিত্তি দুর্বল করার পাশাপাশি ভোটকৌশলেও আঘাত হানেছে। নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে ব্যর্থতা, পুরনো নেতাদের অবমূল্যায়ন এবং দুর্নীতি— সব মিলিয়ে দলের ‘ব্যাটিং অর্ডার’ ভেঙে পড়ে।
জনমুখী প্রকল্প যেমন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ ও ‘যুবসাথী’ সাধারণ মানুষকে আকৃষ্ট করলেও সাংগঠনিক ক্ষত সারাতে ব্যর্থ হয়। মাঠপর্যায়ের নেতাদের গুরুত্ব কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর রাজনীতি তৃণমূলকে সাধারণ মানুষের কাছে দুর্বল করে তুলেছিল।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজস্ব ঘাঁটিতে পরাজিত হন। ভবানীপুর থেকে তিনি ১৫,১০৫ ভোটে হারেন বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর কাছে। যদিও প্রথম দিকে ভোটগণনায় তার লিড ছিল ১৭ হাজারেরও বেশি, পরবর্তী রাউন্ডে তা দ্রুত কমে গিয়ে শেষ পর্যন্ত হারের রূপ নেয়।
পড়ুন: শাপলা চত্বরে নিহত ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর
আর/


