কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা-এর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে মৌসুমি শাক-সবজির দামে হঠাৎ অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সরেজমিনে চন্ডিবের ফেরিঘাট বাজার, কমলপুর গাছতলা ঘাট বাজার ও ভৈরব রানীর বাজার ঘুরে এ চিত্র পাওয়া গেছে। দামের এমন ঊর্ধ্বগতিতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ।
বাজারে গিয়ে দেখা যায়, টমেটো, বেগুন, করলা, শসা, লাউসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। এতে প্রতিদিনের বাজার করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতারা।
চন্ডিবের ফেরিঘাট বাজারে বাজার করতে আসা রিমা আক্তার বলেন,
“আগে ৫০০ টাকায় ভালো বাজার করা যেত, এখন ৮০০ টাকা লাগছে। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।”
কমলপুর গাছতলা ঘাট বাজারের আরেক ক্রেতা রাব্বানী বিপ্লবের অভিযোগ,
“সবকিছুর দাম বাড়ছে, কিন্তু আমাদের আয় তো বাড়ে নাই। এখন অনেক কিছু না কিনেই ফিরে যেতে হয়।”
অন্যদিকে সবজি বিক্রেতা আজিজ মিয়া বলছেন, মৌসুম পরিবর্তনের কারণে অনেক সবজির সরবরাহ কমে গেছে। নতুন ফসল এখনো পুরোপুরি বাজারে না আসায় পাইকারি বাজারেই দাম বেশি, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সংকট ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণেও দাম বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
ভৈরব রানীর বাজারের এক সবজি বিক্রেতা বলেন,
“আমরা বেশি দামে কিনে আনছি, তাই বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এখানে আমাদের তেমন লাভ থাকে না।”
ব্যবসায়ীরা আরও জানান, অনিয়মিত আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গিয়ে দামের ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত রয়েছে।
তবে সচেতন মহলের অভিযোগ, কিছু অসাধু মধ্যস্বত্বভোগী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা আদায় করছে, যা বাজার পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলছে।
ক্রেতারা বাজারে কঠোর তদারকি বাড়ানো এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে ভৈরব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে.এম মামুনুর রশীদ বলেন,
“বাজার পরিস্থিতি আমরা নিয়মিত মনিটরিং করছি। কোথাও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় আমাদের তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।
পড়ুন:জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রত্যয় বাংলাদেশের
দেখুন:আগুনে যেসব ক্ষতি হলো পিজি হাসপাতালের |
ইমি/


