বিজ্ঞাপন

ভোলায় গুচ্ছগ্রামের জমি নিয়ে ৩০ বছর পর বিরোধ, প্রভাবশালীদের আতঙ্কে অসহায় ৯ পরিবার


ভোলায় সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ভূমিহীন অসহায় ও বিধবা নারীদের দেওয়া গুচ্ছগ্রামের জমি নিয়ে ৩০ বছর পর নতুন করে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ভাইয়ের বিরুদ্ধে জমির মালিকানা দাবি করে ৯টি পরিবারকে হয়রানি ও উচ্ছেদের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এতে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে তৎকালীন সরকার ভোলা সদর উপজেলার ভেদুরিয়া ইউনিয়নের জাঙ্গালি খেয়াঘাট এলাকায় ভূমিহীন, অসহায় ও বিধবা নারীসহ মোট ৯টি পরিবারকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় ৮ শতাংশ করে জমি ও একটি করে ঘর প্রদান করে। উপকারভোগীদের মধ্যে রয়েছেন লাইলি বেগম, আব্দুল আলী, আবু কালাম, সেলিম, সামছুল হক ও কাশেমসহ মোট ৯টি পরিবার।

প্রায় তিন দশক ধরে পরিবারগুলো সেখানে বসবাস করে এলেও সম্প্রতি বসবাস অনুপযোগী হয়ে পড়া ঘরগুলো সংস্কারের উদ্যোগ নিলে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকিরের ভাই নূরে আলম বাবুল ওই জমির মালিকানা দাবি করে তাদের উচ্ছেদের চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নূরে আলম বাবুল জমি ছাড়ার জন্য চাঁদা দাবি করছেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে তাদের জিম্মি করে রেখেছেন। ফলে অসহায় পরিবারগুলো মানবিক সংকটে পড়েছে।

ভুক্তভোগী বিধবা লাইলি বেগম বলেন, “আমরা সরকার থেকে এই জমি ও ঘর পেয়েছি। স্বামী নেই, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে মানুষের বাসায় কাজ করে কোনোরকমে জীবন চলছে। এতদিন কোনো সমস্যা হয়নি। এখন হঠাৎ করে এসে আমাদের উচ্ছেদের হুমকি দিচ্ছে। আমাদের আর যাওয়ার কোনো জায়গা নেই।”

তবে অভিযুক্ত নূরে আলম বাবুল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, গুচ্ছগ্রামের নামে যে জমি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে, সেটি মূলত অন্যের রেকর্ডভুক্ত জমি এবং প্রকল্পটি জমি খালের মধ্যে রয়েছে বর্তমানে দখলীকৃত জমি নয়। তার দাবি, তিনি বৈধভাবে ক্রয়সূত্রে জমির মালিক।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুজ্জামান বলেন , ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের আওতায় পুনর্বাসিত পরিবারগুলোর নিরাপত্তা ও বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় এসব অসহায় পরিবার মারাত্মক মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ফেসবুকে নিউজ শেয়ার করায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দেন যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন