খালি বাড়ির উঠানে দিনে দুপুরে দলবেঁধে মাদকসেবন করার প্রতিবাদ করায় বাড়ির মালিক মাকসুদাকে মারধর ও শ্লীলতাহানি করার ঘটনা ভিডিও ধারন করায় বিথী নামের এক অন্তস্বত্তা মাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছ যুবদল নেতা আমির, বশির,নয়ন রশিদগং। এ হামলায় অন্তস্বত্তা গৃহবধূর বিথীর গর্ভে থাকা ৫ মাসের শিশু মারা যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, গর্ভে থাকা শিশু মারা গেলে পর্যাপ্ত প্রমাণাদি নিয়ে থানায় অভিযোগের পর মামলা নিতে গড়িমসি করছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া এলাকার মর্মান্তিক এ ঘটনায় পর ২২ এপ্রিল বুধবার দুপুরে রূপগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে শিশু হত্যার বিচার চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী মা ও তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীর পরিবার অভিযোগ করে বলেন, নিরাপত্তাজনিত সমস্যার কারনে আমরা মাকসুদা, বিথী, হৃদয় গং চনপাড়ার বাড়ি ছেড়ে ডেমরা থানার কাউয়াটঙ্গি এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছি। মাঝেমধ্যে চনপাড়া ৩ নং ওয়ার্ড এলাকার নিজ বাড়ি দেখতে আসি। একইভাবে গত ১৬ এপ্রিল বিকালে আমাদের নিজ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে চনপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নুর ইসলামের ছেলে।
যুবদল নেতা পরিচয়দানকারী আমির (৩৫), মৃত মজিবরের ছেলে বসির (৩৫), আলী হোসেনের ছেলে নয়ন (৩০) করিমের ছেলে রশিদ (৪০)গং আসর জমিয়ে মাদক সেবন করতে থাকে। এ দৃশ্য দেখে আমি এবং আমার মেয়ে অন্তস্বত্তা বিথী (২৬) মৌখিক বাঁধা দেই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে মাদকসেবী যুবদল নেতারা। এ সময় গৃহবধু মাকসুদাকে শ্লীলতাহানি ঘটায়। উক্ত ঘটনা মোবাইলে অন্তস্বত্তা বিথীর মাধ্যমে ভিডিও ধারন করার চেষ্টা করলে যুবদল নেতা আমিরগং এলোপাতাড়ি মারধর করে বিথীকে আহত করে। এ সময় বিথীর তল পেটে লাথি দিলে গর্ভে থাকা শিশু মারা যাওয়ায় রক্তক্ষরণ হতে থাকে। পরে জোসনা (৩০) এগিয়ে আসিলে বিবাদীগন তাকেও মারধর করে। এ সময় হামলার শিকারদের ডাক চিৎকারে পাড়া প্রতিবেশীরা আগাইয়া আসিলে বিবাদীগন প্রকাশ্যে বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও প্রাণ নাশের হুমকি প্রদান করে। আহত বিথীকে নারায়ণগঞ্জ নিয়ে গেলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক বিথী (২৬)কে আল্ট্রাসনোগ্রাফি টেস্ট করিয়া টেস্টের রিপোর্ট দেখিয়া জানান যে, তল পেটে আঘাতের কারনে অতিরিক্ত রক্তক্ষরনের ফলে বিথীর মেয়ের গর্ভে থাকা ৫ মাসের ভ্রুনটি নষ্ট তথা মারা গেছে।
এ ঘটনায় গতকাল রূপগঞ্জ থানায় মামলা করতে গেলে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ সহযোগীতা না করে নানাভাবে গড়িমসি করছে। এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী বিথী, তার স্বামী হৃদয় মিয়া ও অভিযোগকারী মাকসুদা আক্তার।


