যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে মেহেরপুরে পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। দিবসটি উপলক্ষে আজ বৃহস্পতিবার সূর্যোদয়ের সাথে সাথে শহরের কলেজ মোড়ে অবস্থিত শহীদ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে স্মৃতিসৌধ এলাকা পরিণত হয় এক আবেগঘন পরিবেশে।
প্রথমে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক ড. সৈয়দ এনামুল কবির এবং মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য তাজ উদ্দিন খান। এরপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। একে একে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিট, সিভিল সার্জন অফিস, মেহেরপুর প্রেসক্লাব, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ জেলার নানা স্তরের মানুষ শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় উপস্থিত সবার চোখে ছিল গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার ছাপ। স্বাধীনতার জন্য আত্মদানকারী বীর শহীদদের স্মরণে অনেকেই নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। পরে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, সালাম গ্রহণ এবং কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশগ্রহণ করে দেশাত্মবোধক প্রদর্শনী উপস্থাপন করে। পরে শহরের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা সভা এবং শিশু-কিশোরদের জন্য রচনা, চিত্রাঙ্কন ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
এছাড়াও জেলার হাসপাতাল, এতিমখানা ও কারাগারে বিশেষ খাবার বিতরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং তাদের স্মৃতিচারণমূলক অনুষ্ঠানও আয়োজন করা হয়েছে।
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও এই দিবসটি জাতির কাছে এক গভীর তাৎপর্য বহন করে। এদিনের কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরার পাশাপাশি দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।
পড়ুন:পদ্মাপাড়ে স্বজনদের আর্তনাদ, বাসডুবিতে মৃত্যু বেড়ে ২৫
দেখুন:মাদারীপুরে দুই বাসের মুখোমুখি সং/ঘ/র্ষ
ইমি/


