১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে আবারও সরাসরি সংলাপে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার আলোচনার ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকেই পছন্দ করেছে উভয় পক্ষ। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠক ব্যর্থ হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখতে আগ্রহী দুই দেশই।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন প্রকাশের পর পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করে এএফপি। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, তারা নিয়মিত দুই দেশের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং কূটনৈতিক উপায়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিভেদ ও মতপার্থক্য দূর করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্পকে কেন্দ্র করে গত দুই দশক ধরে দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনা চলছে। এ দুই ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো সমঝোতা ছাড়াই তা শেষ হয়।
এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়া হামলায় ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্র সরকারের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা নিহত হন।
উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে যুদ্ধের ৩৯তম দিন, ৭ এপ্রিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে। এর ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেন। তবে টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চলার পরও কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই বৈঠকটি শেষ হয়।
পড়ুন: বর্ণিল আয়োজনে বাংলা নববর্ষ বরণ
আর/


