ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিণত হয়েছে দেশটিতে বিরল খনিজ দখলে নেয়ার লড়াইয়ে। ট্রাম্প চায় ইউক্রেনকে সহায়তার বদলে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর অধিকার। আর জেলেনস্কির চাওয়া নিরাপত্তার গ্যারেন্টি। এমন পরিস্থিতিতে পুতিনও চালছেন নতুন চাল। রাশিয়ায় বিরল খনিজ অনুসন্ধান-উন্নয়নে ওয়াশিংটনকে পাশে চান তিনি।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চাহিদা ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের ভূগর্ভস্থ মজুতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দুই দেশ এই চুক্তি সইয়ের দ্বারপ্রান্তে।
একুশ শতকের অর্থনীতির ভিত্তি হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ। এসব সম্পদ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সামরিক শক্তি ও শিল্প অবকাঠামোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভূরাজনীতি ও অর্থনীতিতে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত ভূমিকা পালন করছে এসব খনিজ।
খনিজ সম্পদের জন্য চীনের ওপর নির্ভরতা কমাতে চান ট্রাম্প। বিশ্বের বিরল খনিজ ভান্ডারের ৭৫ শতাংশই নিয়ন্ত্রণ করে চীন। আর কিয়েভের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ৫ শতাংশ রয়েছে ইউক্রেনে।
ইউক্রেনে অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের যা বিনিয়োগ, মূল্যবান খনিজ তুলে তার মুনাফা তুলতে চান ট্রাম্প। তার মতে, দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উপস্থিতিই দেশটির জন্য নিরাপত্তার গ্যারেন্টি।
সব দেখে শুনে মনে হচ্ছে, ইউক্রেন যুদ্ধে একমাত্র জয়ী রাশিয়া। কারণ ন্যাটোতে সদস্যপদ পাচ্ছে না কিয়েভ। দেশের বড় অংশ দখল করেছে রাশিয়া, আর বাকিটা যুদ্ধে বিধ্বস্ত। পাশাপাশি খনিজের মালিকানা নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের চেয়ে রাশিয়ায় বিরল খনিজ সম্পদের মজুত অনেক বেশি। তাই পুতিনের প্রস্তাব, বিরল খনিজ অনুসন্ধান-উন্নয়নে মস্কো ও ওয়াশিংটন যৌথভাবে কাজ করতে পারে। বলাই বাহুল্য রাশিয়াও চায় যুদ্ধের খরচ ব্যবসায় তুলে আনতে।
এনএ/


