ঢাকার আর্মি স্কোয়াশ কমপ্লেক্সে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আজ শেষ হলো তিন দিনব্যাপী “জাতীয় যুব স্কোয়াশ প্রতিযোগিতা ২০২৬”। বাংলাদেশ স্কোয়াশ র্যাকেটস ফেডারেশনের উদ্যোগে এবং ফেডারেশন সভাপতির বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি দেশের উদীয়মান স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের এক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।
সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ স্কোয়াশ র্যাকেটস ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো:হাসানুজ্জামান, এনডিইউ, এইঅ্যাফ, ডব্লিউসি, পিএসসি, এমফিল। বিশেষ অতিথি ছিলেন চুনকান ফেডারেশনের সভাপতি এয়ার ভাইস মার্শাল ফখরুল ইসলাম। তাছাড়া ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক জি এম কামরুল ইসলামসহ নির্বাহী ও ডেভেলপমেন্ট কমিট সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস সেক্রেটারী আরমান, আমন্ত্রিত অতিথি ও খেলোয়াড়গন উপস্থিত ছিলেন।
এবারের আসরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ক্লাব থেকে মোট ৮০ জন খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করেছে। এর মধ্যে ৬০ জন ছেলে এবং ২০ জন মেয়ে খেলোয়াড় তাদের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করে। ঢাকার বাইরে থেকে বান্দরবান, ঠাকুরগাঁও, গাজীপুর ও চট্টগ্রাম জেলা থেকে আসা খেলোয়াড়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ টুর্নামেন্টকে এক নতুন মাত্রা দিয়েছে।
প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত ফলাফল
#ছেলেদের গ্রুপ:
*অনূর্ধ্ব-১২ (ছেলে) বিভাগ: বিকেএসপির মাহবুব করিম চ্যাম্পিয়ন ঢাকা স্কোয়াশ একাডেমির জিহাদ রানার-আপ এবং তৃতীয় গ্রীন ঢাকা এডুকেয়ার-এর রায়হান।
*অনূর্ধ্ব-১৫ (ছেলে) বিভাগ: বিকেএসপির মিফতাহুল হোসেন আরাফ চ্যাম্পিয়ন, রানার-আপ একই প্রতিষ্ঠানের শাহারিয়ার নাফিজ এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন কালশী স্কুলের মোঃ জিহাদ।
*অনূর্ধ্ব-১৮ (ছেলে) বিভাগ: বিকেএসপির খেলোয়াড়রা আধিপত্য বজায় রেখেছে। চ্যাম্পিয়ন আরাফাত মোল্লা, রানার-আপ মাহফুজ রেজা এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন মেহেদী হাসান।
*অনূর্ধ্ব-২৩ বিভাগ: টুর্নামেন্টের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এই বিভাগে বিকেএসপির আমিনুল ইসলাম আশিক চ্যাম্পিয়ন এবং সে বিশ্ব ব্যাংকধারী একজন পেশাদার স্কোয়াশ ফেলোয়াড়, রানার-আপ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক কামরুল হোসেন এবং তৃতীয় বিকেএসপির মোঃ সাইমুন ইসলাম। সাইমুনও বিশ্ব ব্যাংকধারী একজন পেশাদার স্কোয়াশ ফেলোয়াড়। আমাদের অপর পেশাদার এবং বিশ্ব ব্যাংকধারী একজন পেশাদার স্কোয়াশ ফেলোয়াড় হ’ল বিকেএসপির দুর্জয় বড়ুয়া। দুর্জয়কেও প্রাইজ মানি হস্তান্তর করা হয়।
#মেয়ে বিভাগের ফলাফল হ’ল:
*অনূর্ধ্ব-১৫ (মেয়ে) বিভাগ: চ্যাম্পিয়ন- কালাচাঁদপুর স্কুলের পুজোরানী পার্শি, কালশী স্কুলের মায়ানুর রানার্সআপ এবং তৃতীয় মিরপুর ক্যান্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ মানহা।
*অনূর্ধ্ব-১৮ (মেয়ে) বিভাগ: চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর চাঁদনী সরকার, নির্ঝর ক্যান্টমেন্ট কলেজের নাবিলা তাসনিম রানার্স আপ এবং তৃতীয় ভাষানটেক স্কুলের মেঘনা।
*অনূর্ধ্ব-২৩ (মেয়ে) বিভাগ: চ্যাম্পিয়ন – ইনডিপেনডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের রিয়াজুল জান্নাত উর্ধ্ব, রানার্সআপ -সৈনিক মাসুমা আক্তার বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং তৃতীয়- বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নাইমা সুলতানা।
পাশাপাশি নবীন খেলোয়াড়দের মধ্যে অসামান্য ক্রীড়া পরিদর্শনের জন্যে বান্দরবানের সিংপাত ম্রো ও সিলভিও ত্রিপুরা; ঠাকুরগাঁয়ের স্বাধীন আল ইউসুফ ও মো আলিফ নূর এবং ভাষানটেক স্কুলের ইয়ারা আলীকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি সুবিধা বঞ্চিত কিন্তু প্রতিভাধর শিক্ষার্থী স্কোয়াশ খেলোয়াড়দের (সাদিয়া আক্তার মায়ানুর, পুজা রানী পার্শী, সৈয়দা আক্তার ইস্পিতা, ইয়ানূর ইসলাম ও নীলা আক্তার) মার্চ মাসের “স্কোয়াশ ও শিক্ষা” বৃত্তির টাকা হস্তান্তর করেন।
পড়ুন : ক্রিকেট-ফুটবল নয়, সব খেলার উন্নয়ন চায় সরকার: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী


