বিজ্ঞাপন

যেখানে হারও সুন্দর: পিএসজি-বায়ার্ন ম্যাচে ফুটবলের শ্রেষ্ঠ রূপ

ফুটবল যখন তার সবচেয়ে নির্মল ও সৌন্দর্যময় রূপে ধরা দেয়, তখন দল–পক্ষের বিভাজন যেন অর্থহীন হয়ে পড়ে। উরুগুয়ের কিংবদন্তি লেখক এদুয়ার্দো গালিয়ানো-এর সেই বিখ্যাত উপলব্ধি—ফুটবলের সৌন্দর্যই শেষ কথা—আবারও যেন জীবন্ত হয়ে উঠল প্যারিসের এক অবিস্মরণীয় রাতে।

উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালের প্রথম লেগে প্যারিস সেইন্ট জার্মেইন ও বায়ার্ন মিউনিখ মিলে উপহার দিল ৯ গোলের এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই, যেখানে শেষ পর্যন্ত ৫–৪ ব্যবধানে জয় পায় স্বাগতিক পিএসজি। কিন্তু স্কোরলাইন যেন এই ম্যাচের প্রকৃত সৌন্দর্যকে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না।

প্যারিসের পার্ক দে প্রাঁস-এ শুরু থেকেই আক্রমণ–প্রতি আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। দুই দলের সমর্থকদের তিফো আর গ্যালারির গর্জনে তৈরি হয় মহারণের আবহ। প্রথমার্ধেই ৫ গোল—প্রতিটি আক্রমণ যেন গোলের সম্ভাবনা তৈরি করছিল, আর দর্শকরা ডুবে যাচ্ছিল এক তুমুল ফুটবল-উৎসবে।
দ্বিতীয়ার্ধেও সেই তীব্রতা একটুও কমেনি। ওসমান ডেম্বেলে ও কাভারাৎশেলিয়ার জোড়া গোলে এগিয়ে যায় পিএসজি। জবাবে বায়ার্নের হয়ে গোল করেন হ্যারি কেন, মাইকেল অলিস ও লুইজ দিয়াজ। এক পর্যায়ে ৫–২ গোলে পিছিয়ে পড়েও বায়ার্ন ব্যবধান কমিয়ে ৫–৪ করে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সমতা আর ফেরানো হয়নি।

ম্যাচ শেষে সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়ারার এক ‘পাগলাটে, উন্মুক্ত ফুটবল’ আখ্যা দেন। অন্যদিকে পিএসজি কোচ লুই এনরিকে এটিকে নিজের ক্যারিয়ারের সেরা ম্যাচ বলে উল্লেখ করেন।

এই ম্যাচে আক্রমণভাগ যেমন প্রশংসা কুড়িয়েছে, তেমনি দুই দলের রক্ষণভাগের দুর্বলতাও স্পষ্ট হয়েছে। আক্রমণের ঝড়ে বারবার উন্মুক্ত হয়ে পড়েছে ডিফেন্স, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে এসেছে একের পর এক গোল।

তবে শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয়ের গণ্ডি ছাপিয়ে এই ম্যাচ হয়ে উঠেছে ফুটবলের এক অনন্য উদযাপন। এমন ম্যাচের পরই মনে হয়—ফলাফল নয়, ফুটবলের সৌন্দর্যই আসল। এই ৯ গোলের রাত নিঃসন্দেহে জায়গা করে নেবে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ম্যাচের তালিকায়।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিশ্বকাপ শেষ জাভি সিমন্সের

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন