বিজ্ঞাপন

লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারে পুলিশের অভিযানে মালিকদের মাঝে ক্ষোভ

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের আইন অনুযায়ী মদ এবং মাদক সম্পূর্ণ আলাদা। একটি কুচক্রী মহল মদকে মাদকের সাথে মিলিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে পুলিশের সাথে আতাঁত করে উত্তরার বৈধ বারগুলোতে অভিযানের নামে তামাসা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, উত্তরার পাড়া মহল্লার অলি গলিতে মাদকের অভয়ারণ্য, সেই দিকে প্রশাসনের নজর নেই। ইয়াবা, হিরোইন গাঁজার মতো নেশায় নষ্ট হচ্ছে উত্তরার যুব সমাজ। ইয়াবার মরণ ছোবল থেকে যুব সমাজকে রক্ষার দাবি তুলে ইতি পূর্বে বার মালিকগণ একমত হয়ে কথা বলেছেন, করেছেন রাজপথে আন্দোলন। তারা আরো বলেন, এখানকার থানা পুলিশ ইয়াবা ব্যবসায়ীদের দিকে নজর না দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে কারণে অকারণে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের বারগুলোতে কারণ ছাড়াই অভিযান করছেন বলে দাবি জানান বার মালিকগণ।

অবৈধ এ সব অভিযানকে ঘিরে জনমনে নানান প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে বলছেন লাইসেন্স প্রাপ্ত এ সব রেস্টুরেন্ট ও বার থেকে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পাচ্ছে। সরকারের রাজস্ব আয়ের খাত গুলোকে বিতর্কিত করছে প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা।

পুলিশি অভিযান সম্পর্কে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক উত্তরার কয়েকটি বারের মালিক জানান, তারা সরকারকে ভেট টেক্স প্রদান করে শান্তিপূর্ণ ভাবে ব্যবসা করছেন। কয়েক দিন যাবত একটি কু-চক্রী মহল ফায়দা নিতে প্রশাসনকে বারের বিরুদ্ধে উসকানী দিচ্ছে। তাদের উসকানিমূলক কথা বার্তায় প্রশাসন এখানকার বৈধ বার গুলোতে অভিযান চালাচ্ছে। প্রশাসনের এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে তারা তাদের হাজার হাজার কর্মচারী নিয়ে বিমানবন্দর মহাসড়ক অবরোধসহ বড় ধরনের আন্দোলনে যাবেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী লাইসেন্সপ্রাপ্ত স্থান ছাড়া অন্য যেকোন স্থানে পরোয়ানা ছাড়াই প্রবেশ তল্লাশি এবং প্রয়োজনে বাধা অপসারণ করে ব্যবস্থা নিতে পারবেন, একই আইনে ২৫ ধারায় বলা হয়েছে কোন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার বা কোন বস্তু জব্দ করা হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা লিখিতভাবে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানাবেন এবং মহাপরিচালকের কাছে ও রিপোর্ট পাঠাবেন। এই সব কোন কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না এখানকার প্রশাসন। প্রশাসনের এহেন কর্মকান্ডে স্থানীয় ব্যাবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানের ঘটনায় বৈধ বার মালিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সঙ্গে এসব অভিযানের কারণে বারে আগত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।

বার মালিকদের অভিযোগ, নিরাপদ জোনে অবস্থিত লাইসেন্সধারী বার গুলোতে মূলত বিদেশি কাস্টমার, কূটনৈতিক ব্যক্তি, বিভিন্ন দূতাবাসের কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি বড় ব্যবসায়ীদের যাতায়াত রয়েছে। কিন্তু প্রশাসনের ঘন ঘন অভিযানের কারণে এসব অতিথিরা এখন বারে আসতে অনিহা প্রকাশ করছেন, যা ব্যবসার জন্য বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাদের মতে, দেশে নতুন সরকারকে রাজস্ব আয়ের এই খাতের দিকে নজর দেওয়া উচিত। নতুন সরকারের উপর ভরসা করে দেশে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠা শুরু করেছে, ফ্যাসিস্ট আমলে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায় এবং বহু ব্যবসায়ীর ব্যাংক হিসাব ফ্রিজ করা হয়।বর্তমান নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঔ সমস্ত ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান ধীরে চালু হতে চলছে, এই পরিস্থিতিতে বৈধ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান দেশের অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত বয়ে আনবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনের এসব অভিযান অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিস্বার্থ বা বিদ্বেষমূলক উদ্দেশ্যেও পরিচালিত হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ২৩ই এপ্রিল দুপুর আনুমানিক ৩ টার দিকে উত্তরা ৪ নং সেক্টরে অবস্থিত বাংলাদেশ ক্লাব বারে অভিযান করেন উত্তরা পূর্ব থানা পুলিশ। প্রায় ১ ঘন্টার অভিযানে অবৈধ কোন জিনিসে সন্ধান না পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়। এ বিষয়ে বাংলাদেশ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এতে তাদের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। একইদিন রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উত্তরা বিভাগের উপ- পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে উত্তরা ১৩ নং সেক্টর কমবে বারে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে শতাধিক নারী-পুরুষকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনায় ক্ষোভ আরও চরম আকারে বাড়ে বার মালিকদের মধ্যে।

বার মালিকদের দাবি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর ২৩ ধারা উপেক্ষা করে লাইসেন্সপ্রাপ্ত বারে অভিযান চালানো হচ্ছে এবং অতিথিদের গ্রেফতার ও হয়রানি করা হচ্ছে।

বার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের এক কর্মকর্তা বলেন, গত কয়েক মাস ধরে পুলিশ এর আওতাধীন এলাকায় সোর্স বা নিম্নপদস্থ সদস্যদের মাধ্যমে বৈধ বারগুলোর কাছ থেকে মাসোহারা দাবি করা হচ্ছে।

গত রমজান মাসেও তারা মহাখালীর একটি বারে অভিযান চালিয়ে বৈধ মালামাল ও নগদ অর্থ জব্দ করার অভিযোগ তোলেন তারা।

বার মালিকদের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি রাজধানীর বিভিন্ন বারে অভিযানের সময় সাদা পোশাকে থাকা সদস্যরা সিসি ক্যামেরা অচল করে দিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অতিথিদের মারধর করেন। একই সাথে বারের ক্যাশ কাউন্টার ও ভল্ট ভেঙে লাখ লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। এছাড়াও মূল্যবান ল্যাপটপ, মোবাইল ও বিভিন্ন এ্যালকোহল জব্দ করা হয় এবং স্টাফকে আটক করা হয়। এ সময় বার মালিক ও তাদের প্রতিনিধিরা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে গেলে সংশ্লিষ্টদের অপমান অপদস্ত করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৈধ বার মালিকরা দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও হয়রানি বন্ধের দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা বলছেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে বিদেশি অতিথিদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

তারা বলেন, লাইসেন্স অনুযায়ী প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে বার পরিচালনার অনুমতি রয়েছে তাদের।মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের লোকজন জানান,২১ বছরের কম বয়সীদের কাছে মদ পরিবেশন এবং অনুমোদন বিহীন ব্যক্তির কাছে মদ সরবরাহ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

অন্যদিকে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ধারা ১০ ও ১৩ অনুযায়ী সকল বারের অনুকূলে বিদেশি ব্র্যান্ডের মদ্যপ পানীয়ের রেজিস্ট্রেশন নবায়ন করতে হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ আরো জানান, লাইসেন্সধারী প্রতিষ্ঠানকে সকল শর্ত কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং যেকোনো সময় পরিদর্শনের আওতায় আনা হতে পারে। নিয়ম লঙ্ঘন হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জরুরী নির্দেশনা জারি শেনজেন ভিসাপ্রাপ্তদের জন্য

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন