নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় ঔষধসহ মো. আনোয়ার হোসেন (২৬) নামের এক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। জব্দকৃত ঔষধের আনুমানিক বাজারমূল্য পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা। গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন দুর্গাপুর থানার উত্তর নয়াগাঁও গ্রামের মো. ফজলুর রহমান ও মোছা. মমতা খাতুনের ছেলে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) দুপুরের দিকে গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেনকে আদালতে প্রেরণ এবং এদিন সকালে দুর্গাপুর থানায় এ বিষয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানায় মামলার বাদী উপপরিদর্শক (এসআই) মোস্তাক আহমেদ।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গতকাল (বৃহস্পতিবার) রাতে দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি দল ঝাঞ্জাইল এলাকায় ডিউটিরত ছিল। রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, ঝাঞ্জাইল বাজার সংলগ্ন মেসার্স খোরশেদ ফিলিং স্টেশনের দক্ষিণে ময়মনসিংহগামী পাকা রাস্তায় শুকনা কুড়ি ছোট ব্রিজের ওপর এক ব্যক্তি ভারতীয় ঔষধ অন্যত্র পাচারের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছে।
খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে রাত ১০টা ৪০ মিনিটে মামলার বাদীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালানোর চেষ্টাকালে সঙ্গীয় ফোর্সের সহায়তায় আনোয়ার হোসেনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে তল্লাশি করে তার হেফাজত থেকে তিনটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। বস্তাগুলোর ভেতর থেকে এক হাজার ৯০০ পাতা (প্রতি পাতায় ১৫টি ট্যাবলেট) ভারতীয় ঔষধ জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ঔষধের মধ্যে রয়েছে ৬৫০ পাতা ‘জেস্টাভিটাল’ (Gestavital) ট্যাবলেট, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং এক হাজার ২৫০ পাতা ‘ক্যালেইড-ডি প্লাস’ (Calaid-D Plus) ট্যাবলেট, যার আনুমানিক মূল্য দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। ঔষধগুলোর গায়ে ভারতের গুজরাটের সুরাটের নাম উল্লেখ রয়েছে। সব মিলিয়ে জব্দকৃত ঔষধের আনুমানিক বাজার মূল্য পাঁচ লাখ ১০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার এসআই মোস্তাক আহমেদ জানান, পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃত আনোয়ার হোসেন স্বীকার করেছে, সে দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ভারতীয় ঔষধ বাংলাদেশে এনে বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে আসছিল। তবে জব্দকৃত ঔষধ আমদানির সপক্ষে সে কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি।


