বিএনপি সরকার গঠনের পর এবার আলোচনার কেন্দ্রে সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন। ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রমজান মাসেই হবে বলে আভাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বিএনপি জোটের ভাগে ৩৭টি আসন পড়তে পারে।
এসব আসনে মনোনয়ন পেতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গসহযোগী সংগঠনের ত্যাগী নেত্রীরা। তবে বিগত দিনে আন্দোলন-সংগ্রামে যেসব নারী রাজপথে ছিলেন তারাই এই সংরক্ষিত নারী আসনের দাবিদার—এমনটি বলেছেন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের নেত্রীরা।
জানা গেছে, এবার সংরক্ষিত নারী আসনে মহিলা দলের ত্যাগী নেত্রী ও অপেক্ষাকৃত তরুণদের জায়গা দেবে হাইকমান্ড। তাদের সঙ্গে প্রবীণ নেত্রীরাও জায়গা পাবেন। ২০০১ সালে যারা সংরক্ষিত আসনের এমপি ছিলেন, তাদের অনেকে বয়সের কারণে রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। কেউ কেউ এখনো রাজনীতির মাঠে আছেন। তাদের মধ্যে থেকে কেউ কেউ এবারও জায়গা করে নিতে পারেন।
বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, সংরক্ষিত আসনে সর্বাগ্রে আলোচনায় আছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান। তিনি ২০০১ সালে সংরক্ষিত আসনে এমপি এবং মন্ত্রী ছিলেন। জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৮ আসনের এমপি মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, সহসভাপতি নাজমুন নাহার বেবী আছেন প্রথম কাতারে। তাদের সঙ্গে আছেন ইডেন কলেজ কাঁপানো ছাত্রদল নেত্রী, মহিলা দলের যুগ্ম-সম্পাদক হেলেন জেরিন খান। আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা; সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী; সিলেটের সাবেক সংসদ সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন (লেচু মিয়া)-এর মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন।
আলোচনায় আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা।
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আরও আলোচনায় আছেন সাবেক এমপি নিলোফার চৌধুরী মনি; ঢাবি ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী ও বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার; রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী ও সাবেক এমপি আসিফা আশরাফী পাপিয়া; রাশেদা বেগম হীরা; সাবেক এমপি রেহেনা আক্তার রানু; ইয়াসমিন আরা হক; জাহান পান্না; বিলকিস ইসলাম ও ফরিদা ইয়াসমিন।
আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে আরও রয়েছেন—মাগুরা থেকে নির্বাচিত এমপি ও মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর মেয়ে এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের পুত্রবধূ নিপুন রায় চৌধুরী; মহিলা দল নেত্রী ও সাবেক ছাত্রনেত্রী অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী; শাহানা আক্তার সানু; নিয়াজ হালিমা আর্লি; রাবেয়া আলম; ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান।
সংরক্ষিত মহিলা আসনের দাবিদার অন্যরা হলেন—মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক শাহিনুর নার্গিস; ছাত্রদলের সাবেক নেত্রী শওকত আরা উর্মি; সেলিনা সুলতানা নিশিতা; নাদিয়া পাঠান পাপন; শাহিনুর সাগর। আরও আলোচনায় আছেন চেমন আরা বেগম, কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনিন ও কনক চাঁপাও।
নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে, রমজানের মধ্যেই সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ঈদের আগেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে চায় তারা। সংবিধান অনুযায়ী, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে হয়।
প্রাপ্ত ফল অনুযায়ী বিএনপি ২১১ আসনে জয়ী হয়েছে। এ হিসেবে বিএনপি সংরক্ষিত আসন পাবে ৩৬টি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি। তারা নারী আসন পাবে ১২টি। এনসিপি ৬টির বিপরীতে ১টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টির বিপরীতে ১টি আসন পাবে বলে ইসি সূত্রে জানা গেছে।
পড়ুন : সংরক্ষিত নারী আসন : বিএনপি ৩৫, জামায়াত ১১ ও এনসিপি পাচ্ছে ১টি


