জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে কারা পাচ্ছেন মনোনয়ন, এনিয়ে সর্বত্রই রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা এখন তুঙ্গে। এতে ময়মনসিংহ জেলার আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় থাকায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক নেত্রী তানজিল চৌধুরী লিলি। তিনি বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গৌরীপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
সূত্র জানায়, সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন চলতি সংসদেই সম্পন্ন হতে পারে। এর ফলে দলীয় মনোনয়ন পেতে ইতোমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নারী নেত্রীদের মধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ, তদবির ও অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতা। এতে দলের দুঃসময়ে রাজপথের রাজনীতি, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়তা এবং তৃণমূল সংগঠনকে সক্রিয় রাখার কারণে সংরক্ষিত নারী আসনের সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন তানজিল চৌধুরী লিলি।
জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলার গৌরীপুরে সন্তান তানজীন চৌধুরী লিলির রাজনৈতিক পথচলা শুরু ছাত্র রাজনীতি দিয়ে। ১৯৯৬ সালে গৌরীপুর সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ছাত্রী বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। সেখান থেকে ২০০৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে অনার্স এবং ২০০৫ সালে মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। ওই সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে শামসুন্নাহার হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক এবং পরে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনে তার নাম আলোচনায় আসে বিশেষ করে ২০০৭ সালের ১/১১ পরবর্তী সময়ের ছাত্র-শিক্ষক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখার কারণে। সে সময় আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে দীর্ঘদিন মামলা ও রাজনৈতিক হয়রানির শিকার হন বলে দলীয় নেতাকর্মীরা জানান। এরপর থেকে তিনি কেন্দ্রীয় রাজনীতির পাশাপাশি ময়মনসিংহ অঞ্চলে বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।
বিগত সরকারের সময় বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে অংশ নিতে গিয়ে একাধিক হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন বলেও দলীয় সূত্র দাবি করেছে। একই সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে নারী সংগঠন গড়ে তোলা, নারী অধিকার এবং সামাজিক কর্মকান্ডে যুক্ত থেকে নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর কাজ করে আসছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতির পাশাপাশি গৌরীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হল অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য সচিব হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।
দলীয় সূত্র জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতীকের প্রচারণায় মাঠে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন তানজীন চৌধুরী লিলি। বিশেষ করে নারীদের নিয়ে উঠান বৈঠক, ঘরোয়া বৈঠক ও গণসংযোগের মাধ্যমে বিএনপির প্রার্থীদের পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, তৃণমূলের রাজনীতি থেকে উঠে আসা নারী নেতৃত্বকে সংসদে প্রতিনিধিত্ব দেওয়ার প্রশ্নে তানজীন চৌধুরী লিলির নাম এখন আলোচনায় রয়েছে।
এবিষয়ে তানজীন চৌধুরী লিলি বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে দলের জন্য কাজ করেছি। আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলাম দলের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি সবসময় অনুগত থেকেছি। আমার বিশ্বাস, দলের নেতৃত্বই কাজের যথাযথ মূল্যায়ন করবে। তিনি আরও বলেন, আমি বিশ্বাস করি রাজনীতি মানে শুধু ক্ষমতা নয়, রাজনীতি মানে অধিকার, ন্যায়বিচার এবং সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং জনসম্পৃক্ত রাজনীতি ও খেলাধূলার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রেখেছি। পাশাপাশি সামাজিক কর্মকান্ডের মধ্য দিয়ে আমি দেখেছি- মানুষের সমস্যা খুব বাস্তব, আর সেই সমস্যা সমাধানে নীতিনিষ্ট রাজনীতির বিকল্প নেই।”
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকারের সময় সংরক্ষিত নারী আসনগুলো শুধু সাংবিধানিক প্রতিনিধিত্বের প্রশ্নেই নয়, বরং দলীয় রাজনীতির অভ্যন্তরীণ শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আর সেই হিসাব-নিকাশেই আলোচনায় উঠে এসেছে ময়মনসিংহের এই নারী নেত্রীর নাম।
পড়ুন:দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে বালুবোঝাই ট্রাকের পেছনে ধাক্কা সিলিন্ডারবাহী ট্রাকের,হেলপার নিহত
দেখুন:চা বিক্রি করে সংসার চলে দিনাজপুরের জনপ্রতিনিধির |
ইমি/


