আন্দামান ও বঙ্গোপসাগরে গত বছর অন্তত ৯০০ রোহিঙ্গার মৃত্যু বা নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। গতকাল শুক্রবার ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বাবর বালোচ জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘২০২৫ সাল ছিল সমুদ্রপথে রোহিঙ্গাদের জন্য ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ংকর ও প্রাণঘাতী বছর।’
বাবর বালোচের উদ্ধৃতি দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, চলতি বছরও এ মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত আছে। গত ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ এপ্রিলের মধ্যে দুই হাজার ৮০০-এর বেশি রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন। কয়েক দিন আগে টেকনাফ থেকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ২৮০ যাত্রী নিয়ে রওনা হওয়া ট্রলার ডুবে এখনও ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘উত্তাল সমুদ্র ও অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই হওয়ার কারণে ট্রলারটি ডুবে যায়।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত বছর এ বিপজ্জনক সমুদ্রপথ পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ছয় হাজার ৫০০ জনের বেশি রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে প্রতি সাতজনে একজন নিখোঁজ বা মারা গেছেন। বিশ্বব্যাপী শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রযাত্রার প্রধান রুটগুলোর মধ্যে এ রুটেই বর্তমানে মৃত্যুর হার সর্বোচ্চ। ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র বলেন, ‘২০১২ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ রোহিঙ্গা বিপজ্জনক সমুদ্রযাত্রা করেছেন। এক দশকে পাঁচ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এ যাত্রায় প্রাণ হারিয়েছেন।’ আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগর রোহিঙ্গাদের জন্য একটি চিহ্নহীন কবরস্থানে পরিণত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ আত্মঘাতী যাত্রার নেপথ্যে
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গারা সাধারণত বাংলাদেশের কক্সবাজারের জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলো থেকে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন। রাখাইনে বর্তমানে জান্তা বাহিনী ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীর মধ্যে তীব্র লড়াই অব্যাহত থাকায় নিজ দেশে ফেরার সুযোগ নেই তাদের। যাত্রার কারণ ও বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে ইউএনএইচসিআর জানায়, দেশে অবস্থানরত বেশির ভাগ রোহিঙ্গা নিরাপদ পরিবেশ পেলে স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরতে চান। কিন্তু সেখানে চলমান সংঘাত, নিপীড়ন ও নাগরিকত্বের অনিশ্চয়তায় সে আশা ফিকে হয়ে যাচ্ছে।
কক্সবাজারে ক্যাম্পগুলোতে মানবিক সহায়তা কমে যাওয়া, নিরাপত্তাহীনতা এবং শিক্ষা ও জীবিকার অভাব তাদের এ মরণযাত্রায় ঠেলে দিচ্ছে বলে উল্লেখ করে সংস্থাটি। ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, সমুদ্র পাড়ি দেওয়া রোহিঙ্গাদের অর্ধেকের বেশি নারী ও শিশু। জীবিত উদ্ধার রোহিঙ্গাদের বর্তমানে চিকিৎসা ও মানসিক সহায়তা দিচ্ছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের পথ তৈরি করা এবং মানব পাচার রোধে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার করতে বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
পড়ুন:দেশের ১৮ জেলায় কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টির পূর্বাভাস
দেখুন:মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইরান নিয়ে ভয়ংকর তথ্য, আন্তর্জাতিক সব খবর! |
ইমি/


