বিজ্ঞাপন

সারাদিন পেটে ভাত না থাকলেও মুখে হাসি থাকে মারিয়া ইউনিয়নের জরিনা পাগলীর

শৈশবে আপনজনদের হারিয়েছিলেন, আর যৌবনে হারালেন আশ্রয়ের ঠিকানা। চার বছর বয়সে যে স্টেশনে জীবন শুরু হয়েছিল অবহেলায়, সেই জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও অভাব আর একাকীত্বই যেন নিত্যসঙ্গী কিশোরগঞ্জের জরিনা পাগলীর।

শৈশবের সেই স্টেশন ও বেড়ে ওঠা ঘটনাটি প্রায় কয়েক দশক আগের। কিশোরগঞ্জ রেল স্টেশনে মাত্র চার বছর বয়সী শিশু জরিনাকে ফেলে রেখে চলে যায় তার পরিবার। জনশূন্য স্টেশনে কান্নারত সেই শিশুটিকে কুড়িয়ে আনেন কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার ‘হাত ও পাগল’ নামে পরিচিত এক সহৃদয় ব্যক্তি। নিজ সন্তানের মতো পরম মমতায় তাকে লালন-পালন করে বড় করেন এবং পরবর্তীতে ধুমধাম করে বিয়েও দেন।

সংসার ও নিয়তির পরিহাস বিয়ে হলেও ভাগ্য সহায় হয়নি জরিনার। বিধাতার নির্মম পরিহাসে টেকেনি স্বামীর সংসার। শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধকতার কারণে কোনো ঠাঁই হয়নি সেখানে। বর্তমানে তার স্বামী নেই, নেই কোনো সন্তান। রঙ্গার কোনা বন্ধের মাঝখানে কৃষি জমির পাশে একটি ছোট ভাঙাচোরা ছাপড়া ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি।

অভাব আর অনাহারে দিনযাপন সরেজমিনে দেখা যায়, বন্ধের মাঝখানে ছোট কুঁড়েঘরটিই এখন জরিনা পাগলীর পৃথিবী। ঝড়-বৃষ্টি আর অভাব-অনাহারকে সঙ্গী করেই কাটছে তার প্রতিটি মুহূর্ত। বয়সের ভার আর শারীরিক প্রতিবন্ধকতার কারণে ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেন না। এক মুঠো খাবারের জন্য তাকে চেয়ে থাকতে হয় পথচারী বা প্রতিবেশীদের হাতের দিকে। কেউ দিলে জুটে অন্ন, না দিলে কাটে অনাহারে।

স্থানীয়দের ভাষ্য স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জরিনা একজন শান্ত প্রকৃতির মানুষ। বনের ধারে একাকী পড়ে থাকলেও তার খবর নেওয়ার মতো কেউ নেই। সমাজের বিত্তবান ও সরকারি সহায়তা পেলে এই অসহায় প্রতিবন্ধী নারী হয়তো জীবনের শেষ দিনগুলো একটু শান্তিতে কাটাতে পারতেন। অসহায় জরিনা পাগলীর এই দুর্দিন ঘোচাতে মানবিক মানুষের এগিয়ে আসা এখন সময়ের দাবি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনায় বন্যা, আরও ৩ জেলায় বন্যার আশঙ্কা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন