বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে নামছে চীনের ভয়ঙ্কর নৌবহর

হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধকে ঘিরে নতুন করে জটিল হয়ে উঠছে বৈশ্বিক ভূরাজনীতি। ইরানকে চাপে রাখতে নেয়া এই পদক্ষেপ এখন সরাসরি চীনের জ্বালানি সরবরাহেও প্রভাব ফেলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় কি এবার হরমুজে নৌবহর নামাবে বেইজিং? বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি যেদিকে এগোচ্ছে তাতে মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান থেকে সরে যুক্তরাষ্ট্র-চীন মুখোমুখি অবস্থানে রূপ নিতে পারে। এমন অবস্থায় হরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের অবরোধ ভাঙতে নামতে পারে চীনের ভয়ঙ্কর নৌবহর। ফলে বিশ্বে চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে লেগে যেতে পারে যুদ্ধ।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, মধ্যপ্রাচ্যে চীনের সামরিক উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে সীমিত থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সহজেই ইরানের ওপর হামলা চালাতে পেরেছিল। তবে পরিস্থিতি এখন ধীরে ধীরে চীনকেও টেনে আনছে এই সংঘাতে। এর কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। ইরানের বন্দরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ তেহরানকে লক্ষ্য করে করা হলেও এটি চীনের বিরুদ্ধেও প্রভাব ফেলছে। কারণ বেইজিংয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ তেল এই প্রণালি দিয়েই আসে।

আর এমন অবস্থায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে অন্যতম কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে চীন। ওই সতর্কবার্তায় এশীয় পরাশক্তি এই দেশটি ট্রাম্পকে বেইজিংয়ের বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার আহ্বান জানিয়েছে। এমন অবস্থায় পরিস্থিতি সরাসরি সংঘাতের দিকেই গড়াতে পারে।

ইন্ডিয়া টুডে বলছে, মঙ্গলবার চীনা মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজ যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পেরোতে না পেরে ইরানের বন্দরে ফিরে যায়। পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প এই অবরোধ আরোপ করেন। এর লক্ষ্য ইরানের তেল আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ করা। তবে এতে চীনও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, কারণ তারা ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল কিনে থাকে। আর এখানেই উত্তেজনা বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

কানাডীয় ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক দিমিত্রি লাসকারিস সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসন আগে চীনের ভেনেজুয়েলার তেলে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার চেষ্টা করেছিল। এখন ইরানের তেলের ক্ষেত্রেও একই চেষ্টা করছে। এটি শুধু ইরানের বিরুদ্ধে নয়, চীনের বিরুদ্ধেও উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ।’

উপসাগরীয় অঞ্চলের তেলের ওপর চীনের নির্ভরতা এতটাই বেশি যে সরবরাহে ধাক্কা লাগলে তাদের অর্থনীতি বড় ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এমন অবস্থায় মঙ্গলবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে ‘বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে অভিহিত করে এবং এই অবরোধ ‘সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে’ বলে সতর্ক করে।

ফলে যদি যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী কোনো চীনা-সম্পর্কিত তেলবাহী জাহাজ থামানোর চেষ্টা করে বা নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়, তাহলে তা সরাসরি উত্তেজনাপূর্ণ মুখোমুখি অবস্থার সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে এবং চীনকে তাদের নৌবাহিনী (পিএলএ নেভি) মোতায়েন করতে বাধ্য করতে পারে।

সি ওয়াই সার্জি-প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝাং লুন সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হচ্ছে চীনকে সরাসরি মঞ্চে নিয়ে আসা, যাতে তারা ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে।’

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ না মেনে হরমুজ পাড়ি দিল ২৫ জাহাজ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন