আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি চললেও দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি। একদিকে হামাসবিরোধী মিলিশিয়াদের তৎপরতা বাড়ছে, অন্যদিকে ইসরায়েলি বাহিনীর বর্বরতা চলছেই। সর্বশেষ গতকাল রোববার আইডিএফের হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চল, বিশেষ করে খান ইউনিস ও রাফা এলাকায় কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান জোরালো করার চেষ্টা করছে। গত সপ্তাহে দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে প্রায় ২০ সশস্ত্র ব্যক্তি তিনটি গাড়ি ও একটি ড্রোন নিয়ে প্রবেশ করে। তারা স্থানীয়দের মধ্যে খাবার ও সিগারেট বিতরণ করে এবং নিজেদের হামাসবিরোধী বলে পরিচয় দেয়। জবাবে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায় ও একটি গাড়িতে ট্যাঙ্কবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হামাস।
এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হামাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ইয়াসের আবু শাবাবের গড়ে তোলা ‘পপুলার ফোর্সেস’। ইসরায়েলের সহায়তায় গড়ে ওঠা এই গোষ্ঠী এখন হামাসকে নিরস্ত্র করার আহ্বান জানাচ্ছে এবং গাজার ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণে জায়গা করে নিতে চাচ্ছে। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে এসব মিলিশিয়ার গ্রহণযোগ্যতা খুবই সীমিত। অনেকেই তাদের ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ বা সহযোগী হিসেবে দেখছেন। ফলে এখনও কার্যকর বিকল্প শক্তি হিসেবে দাঁড়াতে পারেনি কেউই। আলজাজিরাকে এক ফিলিস্তিনি বাসিন্দা বলেন, ‘যে ইসরায়েলের কাছে নিজেকে বিক্রি করে দেয়, সে কখনও ফিলিস্তিনি জনগণের নেতা হতে পারে না।’
এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ইসরায়েলি হামলা চলছেই। গতকাল মধ্য গাজার আল-মুগরাক গ্রামে একজন, গাজা সিটির কাছে দুজন এবং খান ইউনিসে গুলিতে ৪০ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন। যুদ্ধবিরতির পর থেকে এ পর্যন্ত মোট ৮শর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি বাহিনী গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখে আরও সম্প্রসারিত করছে ‘ইয়েলো লাইন’। ফলে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা ক্রমেই সংকুচিত এলাকায় আটকে পড়ছেন। এর পাশাপাশি ইসরায়েলের অবরোধের কারণে গাজায় খাদ্য ও ওষুধের তীব্র সংকট চলছে। যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, দৈনিক ৬০০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের কথা থাকলেও বাস্তবে মাত্র ১৫০ থেকে ১৯০টি ট্রাক প্রবেশ করছে।
পড়ুন:যুদ্ধবিরতির মধ্যেই লেবাননে হামলা চালাল ইসরায়েল, নিহত ১৪
দেখুন:ইরান যু/দ্ধে আসছে নতুন মোড়,
ইমি/


