২৭/০২/২০২৬, ১৪:৫১ অপরাহ্ণ
31.6 C
Dhaka
২৭/০২/২০২৬, ১৪:৫১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নওগাঁয় ট্রিপল হত্যা মামলায় ৩ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

নওগাঁর পোরশায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ট্রিপল হত্যা মামলায় ৩জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদেরকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া এ মামালার আরো ৮জন আসামীকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা, অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। খালাস দেওয়া হয় ৪জন আসামীকে।

বুধবার (৬ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক মোহাম্মদ ফেরদৌস ওয়াহিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিষয়টি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও নওগাঁ অতিরিক্ত দায়রা জজ প্রথম আদালত এবং স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-২ এর অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) সাব্বির আহমেদ নিশ্চিত করেছেন।

রায়ে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- পোরশা উপজেলার কালাইবাড়ি গ্রামে ফজলুর রহমানের ছেলে আবু বক্কর সিদ্দিক (পলাতক), সাজেমান আলীর ছেলে আমির আলী এবং হাসেন আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে কাদের।

এ মামলায় সাজাপ্রাপ্ত অন্য আসামীরা হলেন- আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে দুরুল হুদা (পলাতক), ফজলুর রহমানের ছেলে আলিম ওরফে আলম, ইসমাইল হোসেনের ছেলে আবুল কাশেম এবং ফজলুর রহমানের ছেলে ওয়াজেদ আলী। তাদের প্রত্যেককে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো ৬ মাসের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া এ মামলায় আব্দুস সামাদের ছেলে তরিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমানের ছেলে রেজাউল করিম এবং আবুল কালামকে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে খালাস প্রাপ্তরা হলেন- মোসা: মরিয়ম বিবি, কামেলা বেগম, কহিনুর বেগম এবং রফিকুল ইসলাম।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট পোরশা উপজেলার কালাইবাড়ি গ্রামের কৃষক আব্দুস সামাদ আম বাগানে কাজ করছিলেন। এসময় সকাল ৭টার দিকে ২০থেকে ২৫ জন তার আম বাগানে এসে অবৈধভাবে জায়গা দখলে নিতে চায় এবং কিছু আম গাছ উপড়িয়ে ফেলে। এ সময় আব্দুস সামাদের স্ত্রী, ছেলে, ভাই এবং বোনেরা এগিয়ে আসলে মামলার আসামীরা তাদের ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পোরশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রথমে ৩জন এবং পরে আরও ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আব্দুস সামাদের ভাই শফিকুল ইসলাম, বোন সেলিনা এবং তার মেয়ে নার্গিস মারা যায়। এ ঘটনায় আব্দুস সামাদ ২০০৩ সালের ৩০ আগস্ট পোরশা থানায় বাদী হয়ে ২৬ জনের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ ২২ বছর ধরে এ মামলায় ২০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আজ এই রায় দেন বিচারক।

মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাব্বির আহমেদ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং আসামী পক্ষের আইনজীবী তাজরিন নাহার উচ্চ আদালতে রায়ের পক্ষে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা

এস/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন