চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা বাজারে দোকান নির্মাণের জন্য মাটি খোঁড়ার সময় স্থানীয়রা শত বছরের পুরোনো রুপা সদৃশ্য ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করেছে। মুদ্রাগুলো পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, কার্পাসডাঙ্গা বাজারে দোকান নির্মাণ করার জন্য শহিদুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি শনিবার সকালে মাটি খুঁড়তে গিয়ে একটি মাটির পাত্র দেখতে পান। পরে এরমধ্যে শত বছরের পুরনো ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করেন তিনি।
শহিদুল ইসলাম জানান, মাটির হাঁড়ির মতো কিছু বের হওয়ার পর সেটির ভেতরে তারা প্রচুর রূপা সদৃশ্য ধাতব মুদ্রা দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে উৎসুক জনতার ভিড় জমে। পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনও দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুদ্রাগুলো নিরাপদে উদ্ধার করেন।
তিনি আরও বলেন, আমি স্থানীয় দুজন সোনার দোকানীকে দেখিয়েছি, তারা এটাকে রুপা বলছেন। যাহোক প্রশাসন ডেকেছি, তারাই পরীক্ষার পর ভালো বলতে পারবে।
উদ্ধারকৃত মুদ্রাগুলো ব্রিটিশ আমলের, ১৮৬৫ থেকে ১৯০৮ সালের মধ্যে ছাপা। প্রতিটি মুদ্রার গায়ে খোদাই করা আছে ‘ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি’ নাম। মোট ১ হাজার ৮৭৬টি ধাতব মুদ্রা উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় স্বর্ণকাররা জানিয়েছেন, প্রতিটি মুদ্রার বর্তমানে এর বাজারমূল্য বলা সম্ভব না। তবে প্রাচীন ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এর প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি হতে পারে।
দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র বলেন, “উদ্ধারকৃত মুদ্রাগুলো খুবই মূল্যবান এবং প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। আমরা এগুলো পরীক্ষার জন্য পুলিশের সহযোগিতায় স্থানীয় সোনার দোকানে পাঠিয়েছি। পরবর্তী সিদ্ধান্ত চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক স্যার নিবেন। এরপর নির্ধারণ করা হবে এগুলো রাষ্ট্রের কোষাগারে সংরক্ষণ করা হবে নাকি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হবে।”
ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, এটি যেন এক ধরনের “মাটির গুপ্তধন” খুঁজে পাওয়ার ঘটনা।
পড়ুন: পশ্চিম বাকলিয়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও সভা
দেখুন: নারী উদ্যোগে এগিয়ে যাচ্ছে নেত্রকোণার গ্রামীন সমাজ
ইম/


