চলতি বছরের এপ্রিলে নারী বিশ্বকাপ বাছাইয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। বাছাইপর্বে পাশ করে গেলেও বিশ্বকাপের আগে গত ৫ মাসে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচও খেলার সুযোগ পাননি নিগার সুলতানা জ্যোতিরা। যা নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন জ্যোতি-নাহিদারা। তবে এরপরেও ভালো কিছু উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশ ছেড়েছেন নারী ক্রিকেটাররা।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্যেম্বর) দুপুরে বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন জ্যোতিরা। এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক ছিল ভারত। তবে হাইব্রিড মডেল থাকায় শ্রীলঙ্কায় পাকিস্তানের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। তাই আগে সেখানেই যাচ্ছেন জ্যোতিরা। শ্রীলঙ্কা পর্ব শেষ করে ভারতে যাবে বাংলাদেশ দল।
আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠবে নারী বিশ্বকাপের। বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ ২ অক্টোবর পাকিস্তানের বিপক্ষে। প্রথম ম্যাচে নামার আগে শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে টাইগ্রেসরা।
দেশ ছাড়ার আগে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন দলের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার ফাহিমা খাতুন। প্রস্তুতি নিয়ে আক্ষেপ থাকলেও ফাহিমার বিশ্বাস, দল ভালো প্রস্তুতি নিয়েছে। বিশ্বকাপে ভালো ফলাফল নিয়ে আসার প্রত্যয়ের কথাও জানিয়েছেন তিনি।
ফাহিমা বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, প্রথমে বলতে চাই গত কয়েক মাসে আমরা অনেক ভালো অনুশীলন করেছি। বিসিবি আমাদের যতগুলো সুযোগ-সুবিধা দিয়েছে আমরা সবগুলো নেয়ার চেষ্টা করেছি। আমি মনে করি দল হিসেবে আমরা খুব ভালো প্রস্তুতি নিয়েছি। সেটা ব্যাটিং-বোলিং দুই দিকেই। আমরা আশানুরূপ রেজাল্ট করতে চাই।’
ম্যাচ বাই ম্যাচ লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন কোচ সরোয়ার ইমরান। দেশ ছাড়ার আগ মুহূর্তে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ম্যাচ ধরে খেলা ও ভালো খেলা। আমাদের দুটি ম্যাচে ভালো সুযোগ আছে, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা। এছাড়া অন্যান্য দলের সঙ্গেও আমরা… কাউকে বড় করে দেখছি না। শতভাগ দিয়ে চেষ্টা করব।’
এর আগে গতকাল (২২ সেপ্টেম্বর) বিসিবিতে এক সংবাদ সম্মেলনে আক্ষেপ প্রকাশ করে বাংলাদেশ অধিনায়ক জ্যোতি বলেন, ‘বিশ্বকাপের আগে আন্তর্জাতিক সিরিজ খেলে যেতে পারলে খুব ভালো হতো। কিন্তু যেটা হয়নি সেটা নিয়ে আমরা আর চিন্তা করছি না। যেটা হয়েছে সেটা নিয়েই আমরা চেষ্টা করছি এবং ক্রিকেটাররা তাদের শতভাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
সিরিজ না পাওয়ায় প্রস্তুতির ঘাটতি থেকে গেছে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে জ্যোতি বলেন, ‘ঘাটতি তো আছেই। নেতিবাচক বিষয়গুলো আমরা ভাবছি না। শ্রীলঙ্কা ও দক্ষিণ আফ্রিকার সাথে আমাদের দুইটি প্র্যাকটিস ম্যাচ আছে। এই দুই ম্যাচেই আমাদের সুযোগ থাকবে কম্বিনেশন ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের আবহে ফিরতে। আমরা ম্যাচ সিনারিও করে অনুশীলন করেছি মাইন্ডসেট ঠিক রাখতে।’
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

